রাফাহ হামলা নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতেও একই সাফাই গাইলো ইসরাইল। শুক্রবার জাতিসংঘের এই শীর্ষ আদালতে ইসরাইলি আইনজীবীরা দাবি করেন, আত্মরক্ষার জন্য রাফাহয় ইসরাইলের অভিযান চালানোর অধিকার আছে। একই যুক্তিতে আট মাস আগে দেশটি গাজায় অভিযান শুরু করেছিলো।
আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকা যুদ্ধবিরতির আদেশ দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক আদালতকে জরুরি অনুরোধ করেছে। এর শুনানিতে ইসরাইলি আইনজীবীরা শুক্রবার বলেন, হামাসের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার জন্য রাফাহতে সর্বাত্মক আক্রমণে এগিয়ে যাওয়ার অধিকার রয়েছে তাদের।
ইসরাইলের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল গিলাদ নোম আদালতকে বলেন, এটি সত্য যে রাফাহ শহরে হামাসের একটি সামরিক ঘাঁটি। এটি ইসরাইল রাষ্ট্র এবং এর নাগরিকদের জন্য এক উল্লেখযোগ্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও ইসরাইলের অভিযান নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা মিথ্যাচার করছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে দক্ষিণ আফ্রিকার করা আবেদনের ওপর শুক্রবার দ্বিতীয় ও শেষ দিনের শুনানিতে আত্মপক্ষ সমর্থন করে ইসরাইলের আইন কর্মকর্তা বলেন, হামাস যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার্থেই ফিলিস্তিনের গাজায় সামরিক অভিযান চালাচ্ছে তারা।
শুনানিতে অংশ নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার আবেদনে ক্ষোভ জানিয়ে ইসরায়েলি প্রতিনিধি বলেন, এটি বাস্তবতা থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। এ মামলাকে জাতিসংঘের জাতিগত নিধন সনদের সঙ্গে ঠাট্টার সামিল। প্রিটোরিয়ার অভিযোগ, গাজায় চলমান যুদ্ধে এ সনদ লঙ্ঘন করেছে ইসরাইল।

ইসরায়েলের প্রতিনিধি গিলাড নোম আইসিজেকে বলেন, গাজা যুদ্ধ নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা এই আদালতে চতুর্থবারের মতো যে চিত্র তুলে ধরেছে, সেটি বাস্তবতা ও পারপার্শ্বিক পরিস্থিতি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। রাফাহ শহরে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতির ব্যাপারে পুরোপুরি অবগত আছে ইসরাইল।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দাখিল করা এক আবেদনে দক্ষিণ আফ্রিকা গাজা থেকে ইসরাইলি সেনাদের প্রত্যাহার করা ছাড়াও সেখানে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা ও রাফাহ শহরে হামলা বন্ধের নির্দেশ দিতে আদালতের কাছে অনুরোধ জানায়। সেই আবেদনের শুনানিতেই সাফাই সাক্ষ্য দিলো ইসরাইল।
প্রতিরোধ ও পাল্টা হামলার ভয়ঙ্কর দিন দেখলো ইসরাইল