ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি নিয়ে, নতুন করে টেনশনে পড়েছে পশ্চিমা বিশ্ব। লোহিত সাগর ছাড়িয়ে এখন আরর সাগর, ভূমধ্যসাগর ও ভারত মহাসাগরেও ত্রাস হয়ে উঠেছে ইরান সমর্থিত এই প্রতিরোধ যোদ্ধাদলটি। গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের হামলা শুরুর পর গত নভেম্বর থেকে লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দাব প্রণালি এবং এডেন উপসাগরে ইসরাইল ও পশ্চিমাদের জাহাজে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে আসছে হুতিরা।
এরই ধারায় সম্প্রতি গাজা যুদ্ধের সঙ্গে সম্পৃক্ত তিন দেশ ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের চারটি জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালানোর দাবি করেছে হুতি। সশস্ত্র গোষ্ঠীটির সামরিক বিভাগের মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, প্রথম অভিযান চালানো হয়েছে আরব সাগরে। সেখানে ইসরাইলি জাহাজ ইউনিফিককে টার্গেট করে চালানো হামলা সফল হয়েছে এবং একটি ক্ষেপণাস্ত্রটি সরাসরি জাহাজে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।
দ্বিতীয় অভিযানটি চালানো হয় লোহিত সাগরে। সেখানে মার্কিন তেলবাহী ট্যাংকার ডেলোনিক্সকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এনিয়ে চলতি সপ্তাহে দ্বিতীয়বার জাহাজটিতে হামলা হলো। তৃতীয় ও চতুর্থ হামলা হয়েছে ভারত মহাসাগর ও ভূমধ্যসাগরে। তৃতীয় হামলাটি হয় যুক্তরাজ্যের জাহাজ অ্যানভিল পয়েন্টে; আর চতুর্থ হামলাটি লাকি সেইলর নামে একটি জাহাজে করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হুতিদের এই সামরিক মুখপাত্র।
তিন দেশের চার জাহাজে হামলার খবরে, বিশ্ব নড়েচড়ে বসতে না বসতেই, আবারও ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ হাইফা বন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে হুতি। বলেছে, ইরাকের ইসলামিক প্রতিরোধ যোদ্ধা দলের সঙ্গে এক যৌথ অভিযানে এই হামলা চালানো হয়। হুতি মুখপাত্র সারি জানান, বেশ কয়েকটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে বন্দরটিতে হামলা চালানো হয়েছে এবং সেগুলো সফলভাবে আঘাত হেনেছে।
হুতিদের দাবি, গাজায় ইসরাইলিদের অন্যায় যুদ্ধ বন্ধ হলেই তারা জাহাজে আক্রমণ বন্ধ করবে। সেই সঙ্গে বন্ধ করতে হবে ইয়েমেনে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের হামলা। শুধু তাই নয়, কথা না শুনলে তিনদিনের মধ্যে বড় কোন চমক দেখানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছে হুতি যোদ্ধারা। এই হুঁশিয়ারিকে খাটো করে দেখছে না পশ্চিমারা। কারণ, তারা ভালো করেই জানে- হুতিরা শুধু মুখে বলেই বসে থাকে না, একই সঙ্গে করেও দেখায়।
লোহিত সাগর থেকে হুতিরা এখন জাহাজে হামলার এলাকা আরও বিস্তৃত করেছে। আর, এজন্য বেশি শঙ্কিত এই অঞ্চলের সমুদ্র পথ দিয়ে চলাচল করা পণ্য জাহাজ সংশ্লিষ্ট পশ্চিমা দেশগুলো। কারণ, হুতিদের হামলার ভয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ এড়িয়ে এখন ভিন্ন পথে গন্তব্য যাচ্ছে জাহাজগুলো। ফলে জাহাজ কোম্পানির পরিবহন ব্যয় বাড়ছে। যা সরাসরি প্রভাব ফেলছে পশ্চিমা দেশের অর্থনীতিতে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিশ্বের সব দেশের আমদানিকারক, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকারকদের মধ্যে ভয় ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে। লোহিত সাগরে যে সংকট চলছে এবং হুতি বিদ্রোহীরা যেভাবে হামলা চালাচ্ছেন, তাতে অনেক জাহাজকে বাধ্য হয়েই ঘুরপথে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে ব্যয় ও সময়—উভয়ই বেশি পড়ছে। এই সংকট দীর্ঘায়িত হচ্ছে এবং সংকট সমাধানের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
রিল বানাতে গিয়ে প্রাণ দিলেন এক নারী!
মানবাধিকার লঙ্ঘন, ১১ মার্কিন কর্মকর্তার ওপর ইরানের নিষেধাজ্ঞা