ভারতের ইন্টারনেট বাজার নিয়ে মাস্ক-আম্বানি টক্কর

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৪, ০৯:৫৯ পিএম

এ যেন রাজায় রাজায় যুদ্ধ! ভারতের স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড বাজারের দখল নিতে রীতিমতো যুদ্ধে নেমেছেন বিশ্বের অন্যতম দুই শীর্ষ ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক ও মুকেশ আম্বানি। দু’জনেরই চোখ ভারতের বিশাল বাজারে। ইন্টারনেট দুনিয়ার সবচেয়ে বড় বাজার হিসেবে ধরা হয় ভারতকে। 

ইলন মাস্ক বনাম মুকেশ আম্বানির মধ্যে ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হয়েছে ভারত সরকারের একটি সিদ্ধান্তে। ব্রডব্যান্ডের জন্য স্যাটেলাইট স্পেকট্রাম নিলামের পরিবর্তে প্রশাসনিকভাবে বরাদ্দ করা হবে বলে গত সপ্তাহে ভারত সরকার ঘোষণা করার পর এই দুই ধনীর লড়াই আরও জমে উঠেছে।

এই সিদ্ধান্তের আগে ইলন মাস্ক অভিযোগ করেছিলেন যে, স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ডের স্পেকট্রাম নিলামের যে প্রক্রিয়া ছিলো, সেটি আম্বানির তৈরি করা মডেল অনুসারে।

ইলনের এমন সমালোচনার পরই ভারত সরকার নিলাম থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। 

সাধারণত দুইভাবে কৃত্রিম উপগ্রহভিত্তিক তরঙ্গ বণ্টন করা হয়। নিলামের মাধ্যমে অথবা সরাসরি বরাদ্দের মাধ্যমে। ভারতের জিও, ভোডাফোন আইডিয়া, এয়ারটেল নিলামের পক্ষে। অন্যদিকে ইলন মাস্কের স্টারলিংক ও কুইপারের মতো কোম্পানি চায়, তরঙ্গ বরাদ্দ দেওয়া হোক। 

ভারতে ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানে ইলন মাস্ক আগ্রহ প্রকাশ করার পরেই ভারত জানিয়েছে, স্যাটেলাইট স্পেকট্রাম বণ্টনের ক্ষেত্রে নিলাম হবে না। বরং প্রশাসনিকভাবে বণ্টন করা হবে স্পেকট্রাম। এর আগে টেরেস্ট্রিয়াল স্পেকট্রাম বণ্টন নিলামের ভিত্তিতে হতো। তবে ইলন এর বিরোধিতা করতেন। 

ভারত ইন্টারন্যাশনাল টেলিকম ইউনিয়নের সদস্য হওয়ায় আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে স্যাটেলাইট স্পেকট্রাম বণ্টন করা উচিত বলে দাবি করেছিলেন মাস্ক। এই আবহে সম্প্রতি ভারতের টেলিকম মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া ঘোষণা দেন, অন্যান্য দেশের মতো ভারতেও প্রশাসনিকভাবে স্যাটেলাইট স্পেকট্রাম বণ্টন হবে।

তবে মুকেশ আম্বানি নাকি সেই প্রশাসনিক বণ্টন প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছেন। রিলায়েন্সের দাবি, বাজারে সামঞ্জস্য রাখতে স্যাটেলাইট স্পেক্ট্রামেরও নিলাম হওয়া উচিত। এনিয়ে টেলিকম রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষকে চিঠি লিখেছে রিলায়েন্স জিও। ভারতের অন্যান্য আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলো নিলামের পক্ষে সূর তুলেছে।

এই পরিস্থিতিতে টেলিকম মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া তার বক্তব্য অটল। তিনি বলেছেন, সারা বিশ্বেই স্যাটেলাইট স্পেকট্রাম প্রশাসনিকভাবে বিলি বণ্টন করা হয়। ভারত এর থেকে আলাদা কিছু করছে না। কেন্দ্রের এমন অবস্থান স্পষ্টতই ভারতের টেলিকম জায়ান্টগুলোকে ক্ষুব্ধ করছে। 

তবে ভারতের টেলিযোগাযোগ কোম্পানি এয়ারটেলও প্রশাসনিকভাবে বরাদ্দের পক্ষে। এয়ারটেলের প্রধান সুনীল মিত্তাল বলেন, যেসব স্যাটেলাইট কোম্পানিগুলোর শহরের গ্রাহকদের অভিজাত সেবা দেয়ার আগ্রহ রয়েছে তাদেরও সবার মতো টেলিকম লাইসেন্স নিতে হবে এবং স্পেকট্রাম কিনতে হবে।

তবে ইলন মাস্কের জন্য ভারতের ইন্টারনেট বাজার দখল করা সহজ নাও হতে পারে। কারণ স্টারলিংকের যে উচ্চ মূল্য সেটি ভারতের বাজার প্রতিযোগিতায় টিকবে না। প্রধান ভারতীয় ব্রডব্যান্ড প্রদানকারীদের প্রায় ১০ গুণ বেশি খরচ হবে স্টারলিংকের ব্রডব্যান্ড ব্যবহারে। ফলে ইলনের ব্রডব্যান্ড জনপ্রিয় নাও হতে পারে। 

স্টারলিংক যে ধরনের স্যাটেলাইট ব্যবহার করে ইন্টারনেটের কভারেজ দিয়ে থাকে, সেটির রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা ব্যয় অনেক বেশি। রিলায়েন্স জিওসহ অন্যান্য ভারতীয় টেলিকম পরিষেবা প্রতিষ্ঠানগুলো এর চেয়ে অনেক কম খরচে স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড সেবা প্রদান করে থাকে। 

উল্লেখ্য, বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক তার স্টারলিংক স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড ভারতে নিয়ে আসতে দারুণ আগ্রহী। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে চরম বিপক্ষে রয়েছেন এশিয়ার সবচেয়ে সম্পদশালী ও ভারতের টেলিকম জায়ান্ট রিলায়েন্স জিও’র মালিক মুকেশ আম্বানি।

গেলো বছর মাস্ক বলেছিলেন, ভারতে স্টারলিংক কাজ শুরু করলে ইন্টারনেট নেই অথবা উচ্চগতিসম্পন্ন ইন্টারনেট পাওয়া যায় না এমন দূরবর্তী গ্রামগুলোর জন্য অবিশ্বাস্য রকম সহায়ক হবে। ফলে মহাকাশের ইন্টারনেট নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দুই ব্যক্তির মধ্যে যুদ্ধ সত্যিই শুরু হয়ে গেছে। 

ভারতে স্যাটেলাইট সেবার জন্য স্পেকট্রাম বরাদ্দের পদ্ধতি নিয়ে গত বছর থেকেই দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন মুকেশ আম্বানি ও ইলন মাস্ক। ভারতের স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড এমন একটি বাজার, যা প্রতিবছর ৩৬ শতাংশ হারে বেড়ে ২০৩০ সালের মধ্যে ১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে। 

স্পেকট্রামটি দীর্ঘ সময় ধরে স্যাটেলাইটগুলোর জন্য একটি শেয়ারড স্পেকট্রাম হিসেবে নির্ধারণ করে রেখেছিল আইটিইউ (আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সংস্থা)। এই সংস্থার সদস্য ভারত এবং স্যাটেলাইট স্পেকট্রামের নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মনীতি সংক্রান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে দেশটি। সূত্র: বিবিসি। 

এআরএস
ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগে ভারতের রাজধানী দিল্লির কনট প্লেসে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ বা জাতীয় পতাকা পদযাত্রার পরিকল্পনা করার দায়ে গ্রেপ্তার হওয়া কাকরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা...
ভারতের রাজনীতিতে এখন চরম উত্তেজনার পারদ! সৌজন্যে- জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ ছাত্রনেত্রী নেহা বোরা এবং তার একটি বিস্ফোরক ভিডিও। সাক্ষাৎকারের একটি ক্লিপে নেহাকে বলতে শোনা গেছে, ভারতের...
ভারতের রাজনীতি আর বিচারবিভাগের রাজকীয় সীমানা, দুইয়ের সংঘাত এখন তুঙ্গে! দেশের নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে মিছিল এবং আদালত চত্বরে বিক্ষোভ প্রদর্শনের ঘটনায় তীব্র...
ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসাবে খ্যাত মুম্বাইয়ে এক রাজনৈতিক প্রতিবাদে অংশ নিয়ে চরম আইনি জটিলতায় পড়েছেন বলিউড অভিনেতা ইমরান খান। মার্কিন নাগরিকত্বধারী এই অভিনেতাকে ভারত ত্যাগের নির্দেশ দিয়ে...
সৌদি আরবে নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি নুরুল হকের পরিবার সরকারের কূটনৈতিক সহায়তায় দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ক্ষতিপূরণের অর্থ বুঝে পেয়েছে। প্রাপ্ত এই সহযোগিতার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা জানাতে নিহতের স্বজনেরা আজ...
বরগুনার বেতাগীতে কিশোর গ্যাং, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি, অবৈধ দখলবাজি এবং ছড়িয়ে পড়া অনলাইন জুয়া চিরতরে নির্মূল করতে বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) দুই মাসের (৬০ দিন) সময়সীমা বেঁধে...
কেউ যদি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে, তবে সে বিষয়ে আইন ও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট, এখানে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন...
দেশে মাদক নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসা ব্যবস্থার মতো স্পর্শকাতর খাতগুলোতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর চরম অকার্যকারিতা ও ব্যর্থতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের তীব্র সমালোচনা...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর