যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রধান ইস্যু হচ্ছে অর্থনীতি। ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যিনি জয়লাভ করবেন, তিনি শুধু নিজের দেশের অর্থনীতিরই ভাগ্য নির্ধারণ করবেন না, একই সঙ্গে তার সিদ্ধান্তে আন্দোলিত হবে পুরো বিশ্বের অর্থনীতি। কারণ তার হাতেই থাকবে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনৈতিক শক্তির নাটাই।
আমেরিকার নির্বাচনকে ঘিরে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ী মহলে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সহযোগী বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক মহলও ভুগছে অনিশ্চয়তায়। বিশেষ করে তাদের চিন্তার বিষয় রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত রক্ষণশীল অর্থনৈতিক নীতি।
পুনর্বার প্রেসিডেন্টের কুরসিতে বসতে পারলে আমেরিকাকে ফের মহান রাষ্ট্রে পরিণত করার অঙ্গীকার করেছেন তিনি। অর্থনীতি ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আমেরিকাই প্রথম এই নীতি গ্রহণের আগাম ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। এর অংশ হিসেবে গত কয়েক মাসে নির্বাচনী প্রচারণায় বহুবার যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী দেশগুলোর বিরুদ্ধে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরুরও হুমকি দিয়েছেন তিনি।

সতর্ক করে দিচ্ছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকসহ বিশ্ব বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মহল। বিশেষ করে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী চীন, আবারো নির্বাচিত হলে চীনের বিরুদ্ধে আরও বেশি আমদানি শুল্ক আরোপের মাধ্যমে নতুন করে ট্যারিফ যুদ্ধ শুরুর হুমকি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন উভয় দেশের সঙ্গেই ব্যবসা করে এ রকম তৃতীয় পক্ষের দেশগুলোকে চীনের সঙ্গে ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সতর্কতার সঙ্গে নীতি প্রণয়ন করতে হবে বলেও জানিয়েছে প্রভাবশালী থিংকট্যাংক দি আরব গালফ স্টেটস ইনস্টিটিউট অব ওয়াশিংটন।
দি জার্মান ইকোনমিক ইনস্টিটিউট এর মতে ট্রাম্প নির্বাচিত হলে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের আমদানি হওয়া পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক এবং চীন থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের ওপর ৬০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

এদিকে নিজের নির্বাচনী প্রচারণায় এখনও নিজের বৈদেশিক বাণিজ্য নীতির ব্যাপারে সুস্পষ্টভাবে তেমন কিছু উল্লেখ করেননি কমলা হ্যারিস। কমলা হ্যারিস জানিয়েছেন, তিনি মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের ব্যাপারে বাইডেন সরকারের নীতির ধারাবাহিকতা রক্ষা করবেন।
বাইডেন সরকার বরাবরই সুদের হারের মতো গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক নীতির ব্যাপারে ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃপক্ষের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী ছিলেন। তবে প্রথম থেকেই ফেডারেল রিজার্ভের বিভিন্ন নীতির ব্যাপারে অসন্তোষ জানিয়ে আসছেন ট্রাম্প।
এদিকে তৃতীয় বিশ্বের দরিদ্র রাষ্ট্রগুলো এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাণিজ্যিক অগ্রগতির পথে ট্রাম্পের রক্ষণশীল বাণিজ্য নীতি বাধার সৃষ্টি করতে পারে বলে এরমধ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও এসব দেশের অর্থনীতির নীতি নির্ধারকরা।
হিজবুল্লাহর নতুন প্রধান কে এই নাঈম কাশেম?
লোহিত সাগরে পশ্চিমাদের ঘুম হারাম করবে ‘আল কারিয়া’