সর্বাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গোল্ডেন ডোমের নকশা চূড়ান্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মহাকাশে বসানো হবে এর সেন্সর যার সাহায্যে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে ছোড়া যেকোনো ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা যাবে। পেন্টাগন বলছে, কয়েক প্রজন্মের মার্কিনিদের সুরক্ষার লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়েছে এই অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা।
আয়রন ডোমের আদলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করার ঘোষণা দিয়েছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে অনুপ্রাণিত হলেও আদতে গোল্ডেন ডোম হবে আরও অত্যাধুনিক। সম্প্রতি মঙ্গলবার এই নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নকশা চূড়ান্ত করেছে হোয়াইট হাউস।
মূলত দুটি অংশে বিভক্ত কাটিং এজ প্রযুক্তি থাকবে গোল্ডেন ডোমে। যার একটি সেন্সর, অন্যটি ইন্টারসেপ্টর। নকশা অনুসারে মহাকাশে স্থাপন করা হবে সেন্সরটি। যা সম্ভাব্য মিসাইল হামলার সংকেত পাঠাবে ভূপৃষ্ঠ ও মহাকাশে থাকা ইন্টারসেপ্টরে। ক্ষেপণাস্ত্র যে প্রান্ত থেকেই ছোড়া হোক তা ধ্বংস করতে পারবে গোল্ডেন ডোম।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, গোল্ডেন ডোম বিশ্বের অপর প্রান্ত বা মহাকাশ থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসে সফল হবে। সর্বকালের সেরা প্রযুক্তি এটি। আপনারা জানেন ইসরাইলকে তাদের আয়রন ডোম তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করেছে। এবং তারা তা ব্যবহার করে সফলও হয়েছে। আর এবার যে প্রযুক্তি তৈরি করতে যাচ্ছি তা এর থেকেও বহুগুণে শক্তিশালী হবে। এর সঙ্গে এখনকার মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সংযুক্ত করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, গোল্ডেন ডোমের মাধ্যমে নিউক্লিয়ার মিসাইলসহ ধ্বংস করা যাবে সব ক্ষেপণাস্ত্র। গোল্ডেন ডোম যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গেইম চেঞ্জার। এটা কয়েক প্রজন্মের মার্কিনিদের সুরক্ষার বিনিয়োগ। এর আগে প্রেসিডেন্ট রিগ্যান এর স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন। ক্রুজ, ব্যালিস্টিক, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা ড্রোন প্রচলিত হোক কিংবা পারমাণবিক সকল ধরনের হামলা থেকেই আমরা মাতৃভূমিকে রক্ষা করতে পারবো।
মূলত ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তে একটি স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক তৈরি করবে গোল্ডেন ডোম। যা কাজ করবে ঢালের মতো এর আওতায় যুক্ত হতে পারে শতাধিক স্যাটেলাইট। সাধারণত হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের উচ্চগতির কারণে তা প্রতিহত করা বেশ কঠিন। স্বল্প উচ্চতা আর গতিশীল পথ পরিবর্তনের কারণে রাডারে ধরা পড়ে না ক্রুজ মিসাইল। টানা ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন হামলা ঠেকানো কঠিন প্রচলিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য।

আর এসব কথা ভেবেই গোল্ডেন ডোম প্রযুক্তি আনতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস জানাচ্ছে, এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য ৫০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বাজেট রাখা হচ্ছে। তবে মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেন, গোল্ডেন ডোমের জন্য ১৭৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হবে। বর্তমানে কংগ্রেসে থাকা তার ট্যাক্স বিলে এটি গড়ে তোলার জন্য প্রাথমিকভাবে ২৫ বিলিয়ন ডলার চেয়েছেন।
সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে যে, এই প্রকল্পের খরচের একটি বড় অংশ কৃত্রিম উপগ্রহ এবং ইন্টারসেপ্টরের পেছনে ব্যয় হবে। এ প্রকল্পে নেতৃত্ব দেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্স।
ব্যবস্থাটির উদ্দেশ্য হবে আকাশে ওড়ার আগেই কোনো ক্ষেপণাস্ত্রকে ধ্বংস করা, অথবা মাঝ আকাশে তা আটকে দেওয়া। প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ সাংবাদিকদের বলেন, গোল্ডেন ডোম হল কয়েক স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তাই ছুটে আসা ক্ষেপণাস্ত্র এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি স্তর ভেদ করে গেলেও তা পরের পর্যায়ে ঠেকানো যাবে।
ট্রাম্প জানান, গোল্ডেন ডোম তৈরি করতে প্রায় তিন বছর লাগবে। তবে, একাধিক সূত্র জানায়, প্রকল্পের খরচ ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বহন করা হবে। ওই প্রকল্পের নেতৃত্ব দেবেন স্পেস ফোর্স জেনারেল মাইকেল গুয়েটলিন। বিমান বাহিনীতে ৩০ বছরের কর্মজীবনের পর তিনি ২০২১ সালে মহাকাশ বাহিনীতে যোগ দেন। এই চার তারকাধারী জেনারেল ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা এবং মহাকাশ ব্যবস্থায় বিশেষজ্ঞ।
মার্কিন কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে চীন-রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতার ব্যাপারে উদ্বিগ্ন। গুয়েটলিন বলেন, সশস্ত্র বাহিনী প্রতি বছর প্রচুর হুমকি তৈরি হতে দেখছে। মার্কিন সিনেটরদের উদ্দেশ্যে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, গোল্ডেন ডোমের বাজেট পেতে দুই থেকে চার বছর অপেক্ষা করতে হলে হুমকিগুলো মোকাবেলা করা খুব কঠিন।
গোল্ডেন ডোম এখনো ধারণার পর্যায়ে রয়েছে বলে এই সপ্তাহে আইন প্রণেতাদের বলেন বিমান বাহিনী সচিব ট্রয় মেইঙ্ক। প্রকল্পটি ‘স্টার ওয়ার্স’ প্রোগ্রাম নামে পরিচিত কৌশলগত প্রতিরক্ষা উদ্যোগের কথা মনে করিয়ে দেয়। প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রপতি রোনাল্ড রিগ্যান ওই উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ওই উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য স্থল ও মহাকাশে পাল্টা অস্ত্রের মাধ্যমে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রস্তাব করা হয়। অস্ত্রব্যবস্থার মধ্যে লেজারও ছিল।
‘স্টার ওয়ার্স’ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়নি। প্রকল্পটি খুবই ব্যয়বহুল ছিল। এত বড় অস্ত্রব্যবস্থা তৈরি সেই সময় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সম্ভব ছিল না বলে প্রকল্পটির সমালোচকরা বলে থাকেন। তখন মনে করা হত, এমন শক্তিশালী অস্ত্রব্যবস্থা গড়ে তোলা হলে কোনো একটি পরাশক্তির পারমাণবিক হামলা পালটা পারমাণবিক হামলা ডেকে আনবে। এভাবে দুটি দেশই ধ্বংস হবে বলে আশঙ্কা করা হয়।
দুর্ভিক্ষের সংজ্ঞা বদলে দেবে গাজার মানবিক সঙ্কট
যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলি দূতাবাসের দুই কর্মীকে গুলি করে হত্যা