ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় গতকাল শনিবার বোমা হামলা চালায় মার্কিন যুদ্ধবিমান। এগুলো হলো -ফোর্দো, নাতাঞ্জ ও ইস্পাহান। এই হামলার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী সরাসরি ইরান যুদ্ধে জড়ালো। হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
অন্যদিকে, তিন পরমাণু স্থাপনাগুলোয় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে তেহরান। শনিবার স্থানীয় সময় রাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় এই তিনটি পরমাণু স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু ছিলো বলে জানান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এই তিন স্থাপনাই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মূল কেন্দ্রবিন্দু, যেগুলোর ওপর আগেও ইসরাইল হামলা চালিয়েছিলো।
ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক কেন্দ্র ফোর্দো। দেশটির পবিত্র কোম শহরের কাছে নির্মিত এই স্থাপনাটি পাহাড়ের নিচে অনেক গোপনে ও সুরক্ষিত উপায়ে তৈরি হয়েছে, যা ২০০৯ সালে বিশ্বের নজরে আসে। তারপর থেকে এই প্লান্টটি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। এই কেন্দ্রেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা হয়।
এর প্রধান হলগুলি আনুমানিক ৮০ থেকে ৯০ মিটার মাটির নীচে অবস্থিত । ধারণা করা হয় যেকোনো বিমান হামলা থেকে এটি নিরাপদ এবং ফলে আকাশ থেকে এই স্থাপনাটি ধ্বংস করা প্রায় অসম্ভব কাজ।
নাতাঞ্জ নিউক্লিয়ার ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর মধ্যে একটি। এই কেন্দ্রের ভূগর্ভস্থ সমৃদ্ধকরণ সুবিধাটি ২৫ ফুট পুরুত্বের একটি কংক্রিট ঢাল দ্বারা সুরক্ষিত।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভ এনটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, নাতাঞ্জে ছয়টি ভূ–উপরিস্থ ভবন ও তিনটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনা রয়েছে। এর মধ্যে দুইটি স্থাপনায় ৫০ হাজার সেন্ট্রিফিউজ রাখার ক্ষমতা রয়েছে।
এই পারমাণবিক কেন্দ্রের অস্তিত্ব প্রথম ২০০২ সালে ইরানের পিপলস মুজাহিদিন অর্গানাইজেশন কর্তৃক উন্মোচিত হয়। এই কেন্দ্র ২০০৩ সাল থেকে চালু রয়েছে। ইরান এখানে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছিল বলে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা জানিয়েছে। উল্লেখ্য, অস্ত্র তৈরির উপযোগী ইউরেনিয়ামকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করতে হয়।
২০২৫ সালের জুন মাসে, ইরান ও ইসরাইলের পাল্টাপাল্টি হামলার সময় আইডিএফ ব্যাপকভাবে এখানে হামলা চালায়। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার জানিয়েছিল , হামলার সময় উপরের স্থল স্থাপনাটি আংশিকভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

ইস্পাহান ইরানের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত। দেশটির সবচেয়ে বড় পারমাণবিক গবেষণা কমপ্লেক্স। এনটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই স্থাপনা চীনের সহায়তায় নির্মাণ করা হয়। আর এটি চালু হয় ১৯৮৪ সালে।
এনটিআই জানায়, ইস্পাহানে প্রায় তিন হাজার বিজ্ঞানী কাজ করেন। একে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ‘কেন্দ্রস্থল’ বলে ধারণা করা হয়। এই কেন্দ্রে চীনের সরবরাহ করা তিনটি ছোট গবেষণা চুল্লি চালু রয়েছে।
সেই সঙ্গে এখানে একটি কনভার্সন ফ্যাসিলিটি অর্থাৎ পরিবর্তন কেন্দ্র, একটি জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্র, একটি জিরকোনিয়াম ক্ল্যাডিং কারখানা ও আরও কিছু প্রযুক্তি স্থাপনা ও গবেষণাগার রয়েছে বলে জানিয়েছে এনটিআই।
ইরানের এই তিন গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাতেই ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে হামলা চালিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ বোমারু বিমানগুলো দেশটির মিজৌরি অঙ্গরাজ্যের ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে। টানা প্রায় ৩৭ ঘণ্টা উড়ে গিয়ে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়।
ইরানে হামলা চালাতে ছয়টি বি-টু স্পিরিট বম্বার পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র