ভয়াবহ দাবানল থেকে রক্ষা করতে স্পেনের উত্তর-পূর্ব তারাগোনা প্রদেশের ১৮ হাজারের বেশি বাসিন্দাকে ঘরের ভেতরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্স। দাবানল নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় প্রায় তিন হাজার হেক্টর বনাঞ্চল পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ায় কয়েক ডজন বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
জুন মাসে রেকর্ড তাপমাত্রার কারণে এরিমধ্যে স্পেনের বেশিরভাগ অংশে দাবানলের জন্য উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কাতালান অঞ্চলের তারাগোনায় ১ জুলাই দাবানলে দু’জন মারা গেছেন।
সোমবার ভোরে পলস গ্রামের কাছে একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে সবশেষ দাবানলের সূত্রপাত হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তীব্র বাতাস ও দুর্গম ভূখণ্ডের কারণে আগুন নেভানোর প্রচেষ্টা ব্যাহত হচ্ছে। মঙ্গলবার ভোরে জরুরি সামরিক ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে এবং ৩০০ জনেরও বেশি ফায়ার ফাইটার কাজ করছে।
কাতালানের আঞ্চলিক ফায়ার সার্ভিস সংস্থা জানিয়েছে, শক্তিশালী বাতাস বিকেলের মধ্যে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সোমবার মধ্যরাত থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভানোর জন্য লড়াই করছেন। সেখানে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে।
রাতভর, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিনের কর্মীরা আগুনে ঘেরা পলস পর্বতমালার আঁকাবাঁকা রাস্তাগুলোতে ছুটে যান। পাশের গ্রাম জের্তা এবং অ্যালডোভারের বাসিন্দারা নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন, কারণ আগুন তাদের ঘরবাড়িকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
সেখানকার বাসিন্দা ৭৬ বছর বয়সী রোজা ভেলেদা বলেন, অনেক ভয় এবং কান্নাকাটি হয়েছে। কারণ আমরা ইতিমধ্যেই আগুনের ধারে আছি। গত রাতে, বাতাসের কারণে আগুন এবং ধোঁয়ার কারণে আমরা আমাদের বাড়ি ছেড়ে যেতে পারিনি। ভয়াবহ, এমনটি আগে কখনও দেখা যায়নি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা আগুনকে এব্রো নদী জুড়ে ছড়িয়ে পড়া থেকে বিরত রেখেছে, যা পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে পারতো। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার প্রায় ৩০ শতাংশ পোর্টস ন্যাচারাল পার্কের মধ্যে অবস্থিত এবং কর্মকর্তারা আগুনের উৎস তদন্ত করছেন।
