অস্ট্রেলিয়াজুড়ে বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ অভিবাসন-বিরোধী বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে। কিন্তু এর সাথে কট্টর-ডানপন্থিদের সম্পৃক্ততা এবং ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগে বিক্ষোভের নিন্দা করেছে সরকার। ‘মার্চ ফর অস্ট্রেলিয়া ব্যানারে রোববারের এই বিক্ষোভ হয়েছে সিডনি, মেলবোর্নসহ অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য বড় বড় শহরগুলোতে। অভিবাসীদের পক্ষেও হয়েছে বিক্ষোভ।
দুদল মুখোমুখি অবস্থানে যাওয়ায় কয়েকদফা সংঘর্ষও হয়েছে। বিরোধীদলের অনেক রাজনীতিবিদ বিক্ষোভে যোগ দিয়েছে। সিডনির বিক্ষোভ-সমাবেশে যোগ দিয়েছে ৮০ হাজার মানুষ।
স্থানীয় সময় রোববার দুপুরে সিডনির সেন্ট্রাল রেলস্টেশনের কাছে সমাবেশ শুরু হয়। বেলমোর পার্ক থেকে এক কিলোমিটার হেঁটে ক্যা ভিক্টোরিয়া পার্ক পর্যন্ত ‘মার্চ ফর অস্ট্রেলিয়া’-তে অংশ নেন বিক্ষোভকারীরা।
এ সময় সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা অস্ট্রেলিয়ার পতাকা হাতে নিয়ে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। সমাবেশ ঘিরে আগে থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
আয়োজকেরা শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কের কথা অস্বীকার করলেও সমাবেশে একটি কট্টর নব্য নাৎসি গোষ্ঠীর সরব উপস্থিতি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
তারা সমাবেশে নাৎসি স্লোগান দেয় এবং বর্ণবাদী প্রচারপত্র বিলি করে। এ সময় ‘তাদের ফেরত পাঠাও’ স্লোগান দেয় তারা। সমাবেশের অন্যতম আয়োজক নিজেকে ‘বেক ফ্রিডম’ নামে পরিচয় দেন।
সিডনি ছাড়াও অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য বড় শহর- মেলবোর্ন, ব্রিসবেন, ক্যানবেরা, পার্থ, অ্যাডিলেড, হোবার্ট এবং ডারউইনেও একই ধরনের অভিবাসনবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অ্যাডেলেডে পুলিশের মতে সেখানে বিক্ষোভে আনুমানিক ৩০ হাজার মানুষ অংশ নেয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, অভিবাসীদের কারণে দেশের সংস্কৃতি ধ্বংস হচ্ছে। এছাড়াও মজুরি, ট্রাফিক, হাউজিং, পানি সরবরাহ, পরিবেশ, অবকাঠামো, হাসপাতাল সবখানেই ক্ষতি হচ্ছে স্থানীয়দের। বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা।
এই বর্ণবাদী সমাবেশের নিন্দা জানিয়ে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বলেন, ‘যারা আমাদের সমাজে বিভেদ তৈরি করতে চায় এবং সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চায় তাদের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় কোনো স্থান নেই।’ তিনি এই সমাবেশকে অস্ট্রেলিয়ার মূল চেতনার পরিপন্থী বলে আখ্যা দেন।
আফগানিস্তানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৬২২
রেকর্ড সাড়ে ১৭ কোটি ডলারে ইসাককে দলে ভিড়ালো লিভারপুল