মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারো উচ্চহারে নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণায় সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ভারতের ব্যবসায়ীরা। সবচেয়ে বেশি চিন্তিত দেশটির ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো। বিদেশি ওষুধের ওপর নতুন করে ১০০ শতাংশ শুল্কারোপে ঘোষণায় বড় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা। বিশ্লেষকদের বলছেন, বারবার নতুন শুল্ক চাপানোর ফলে মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে এবং অর্থনৈতিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওষুধ রপ্তানির সবচেয়ে বড় বাজার। ২০২৪ অর্থবছরে ভারতের ২৭.৯ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ওষুধ রপ্তানির মধ্যে ৩১ শতাংশ বা ৮.৭ বিলিয়ন ডলারের ওষুধ যুক্তরাষ্ট্রে গেছে। ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে আরও ৩.৭ বিলিয়ন ডলারের ওষুধ রপ্তানি করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত জেনেরিক ওষুধের ৪৫ শতাংশের বেশি ও বায়োসিমিলার ওষুধের ১৫ শতাংশ ভারত সরবরাহ করে। ড. রেড্ডিজ, অরবিন্দ ফার্মা, জাইডাস লাইফসায়েন্সেস, সান ফার্মা ও গ্ল্যান্ড ফার্মার মতো প্রতিষ্ঠান তাদের মোট আয়ের ৩০–৫০ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে অর্জন করে।
যদিও ট্রাম্প নতুন শুল্ক আরোপের আইনি ব্যাখ্যা দেননি, তবু তিনি বলেছেন, করগুলো মার্কিন জাতির নিরাপত্তা ও অন্যান্য কারণে’ জরুরি। শুল্ক বা করের মতো বিষয় সাধারণত মার্কিন কংগ্রেসের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই মনে হচ্ছে, এ ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প নিজের ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেছেন।
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক মূলত ব্র্যান্ডেড ও পেটেন্টপ্রাপ্ত ওষুধকে নিশানা করছে, যেখানে বড় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আধিপত্য রয়েছে।
কিন্তু ভারত থেকে আসা জটিল জেনেরিক ও বিশেষ ওষুধও কি এ শুল্কের আওতায় পড়বে, তা অজানাই রয়ে গেছে। কারণ ট্রাম্প জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে যাদের নিজস্ব উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে তারা শুল্কের আওতায় পড়বে না। বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর যুক্তরাষ্ট্রে নিজস্ব উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তারা ভারতের তৈরি সস্তা জেনেরিক ওষুধের ওপর নির্ভরশীল। বিশ্লেষকরা বলছেন, শুল্ক বাড়লে ওষুধের দাম বাড়বে, মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে এবং ওষুধের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কম মুনাফায় কাজ করছে, তাই শুল্ক আরোপ হলে তারা খরচ সামলাতে পারবে না এবং শেষ পর্যন্ত তা মার্কিন ভোক্তা বা বিমা প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপিয়ে দেবে।
ট্রাম্প ইতিমধ্যে ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ ‘দণ্ড’ আছে রাশিয়া থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখায়।
জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে বিএনপি-আওয়ামী লীগের মারামারি-হট্টগোল
নেতানিয়াহুর সফরের প্রতিবাদে নিউইয়র্কে ব্যাপক বিক্ষোভ 