গাজায় হামাসের হাতে আটক ইসরাইলি জিম্মিদের মুক্তি নিয়ে আশার কথা জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। রোববার (১২ অক্টোবর) এনবিসি নিউজের মিট দ্য প্রেসে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছে, এই জিম্মিরা যেকোনো মুহূর্তে মুক্ত হতে পারেন।
ভ্যান্স জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জিম্মিদের স্বাগত জানাতে শিগগিরই মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হবেন এবং সোমবার সকালে (মধ্যপ্রাচ্যের সময়) ইসরাইল ও মিশরে পৌঁছাবেন।
শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে গাজায় আটক ৪৮ জন জিম্মির মধ্যে ২০ জন জীবিত আছেন বলে ইসরাইল ধারণা করছে। এই জিম্মিদের মুক্তির জন্য ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সোমবার দুপুর ১২টায় (স্থানীয় সময়) শেষ হবে।
ইসরাইলের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী শারেন হাসকেল স্কাই নিউজকে বলেন, আমরা আশা করছি জিম্মিরা আজ রাত থেকেই মুক্তি পেতে পারেন।
শান্তি চুক্তির প্রথম পর্যায়ে সব ইসরাইলি জিম্মির মুক্তি এবং ইসরাইলে আটক ২৫০ জন দীর্ঘমেয়াদী ফিলিস্তিনি বন্দী এবং এক হাজার ৭০০ জন আটক ব্যক্তির মুক্তির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া, গাজায় মানবিক সহায়তার প্রবাহ নিশ্চিত করা হবে। তবে গাজার দীর্ঘমেয়াদী শাসন ব্যবস্থা ও নেতৃত্ব নিয়ে এখনো অনেক প্রশ্ন অমীমাংসিত রয়েছে।

ভ্যান্স স্পষ্ট করেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গাজা বা ইসরাইলে কোনো স্থলসেনা মোতায়েন করবে না। তিনি বলেন, আমরা সেখানে বুট পাঠানোর পরিকল্পনা করছি না। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের সদস্যরা যুদ্ধবিরতির শর্তাবলী পর্যবেক্ষণ করবেন এবং মানবিক সহায়তার বিতরণ তদারকি করবেন।
এর আগে এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, গাজায় স্থিতিশীলতা ও সহায়তা বিতরণে সহায়তার জন্য ২০০ মার্কিন সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে, যা ভ্যান্স খণ্ডন করেন।
২০২৩ সালের সাত অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের হামলার পর এই সংঘাত শুরু হয়, যাতে ১২০০ মানুষ নিহত এবং ২৫০ জনকে জিম্মি করা হয়।
স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, এরপর থেকে গাজায় ৬৭ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এই শান্তি চুক্তি গত দুই বছরের সংঘাতের পর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজার ভবিষ্যৎ শাসন ব্যবস্থা নিয়ে দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনা এখনো জটিল এবং অনিশ্চিত।
এদিকে এনবিসি নিউজকে হামাসের ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক কর্মকর্তা বাসেম নাইম বলেছেন, আমরা আজ (গাজা) শাসনক্ষমতা থেকে সরে যেতে এবং গাজার শানপরিচালনা একটি বোর্ড, সরকার বা কমিটির হাতে তুলে দিতে প্রস্তুত। তবে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন না হওয়া পর্যন্ত তারা নিরস্ত্র হবো না।
হামাসের মুখপাত্র লতিফ আর কানোয়া আরব নিউজকে বলেছেন, গাজা প্রশাসন দেখভাল করার জন্য একটি কমিটি প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবে হামাসের আপত্তি নেই।
এদিকে এক সূত্রের বরাত দিয়ে আরব নিউজ জানিয়েছে, হামাস ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে গাজার শাসনক্ষমতা তাদের কাছে হস্তান্তরে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে। তবে একটি শর্তে।
তা হচ্ছে, হামাসের কর্মচারীরা, যারা ২০০৭ সালে হামাসের গাজা দখলের পর নিয়োগ পেয়েছিল তাদের আবার স্বপদে বহাল করতে হবে এবং তাদের মজুরি ও অধিকারও সুরক্ষিত রাখতে হবে।
