ইসরাইলি জিম্মিদের মরদেহ ফেরতের ব্যাপারে হামাসের প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পর গাজা উপত্যকায় খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রীর প্রবেশ সীমিত রাখার সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে ইসরাইলের মন্ত্রিসভা। এরইমধ্যে আট জিম্মির মরদেহ ফেরত দেয়া হয়েছে তেল আবিবের কাছে। এর আগে, আবারো হামাসকে নিরস্ত্র করার হুমকি দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন, হামাস অস্ত্র ত্যাগ না করলে বাধ্য করা হবে।
দুই বছর বন্দি থাকার পর অবশেষে ইসরাইলি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন ফিলিস্তিনি জাইদ জুনাইদি। পশ্চিত তীরের হেবরনে পরিবারের কাছে ফিরতে পেরে বহুদিন পর স্বস্তি ফিরেছে তার। জুনাইদি বলেন, মানুষ ওই কারাগারে বছরের পর বছর কাটিয়ে দিচ্ছে। সে তুলনায় আমি তাদের কাছে একদমই নতুন বন্দি। এতো দ্রুত মুক্তি পাবো একেবারেই ভাবিনি। খুবই অবাক হয়েছি। নতুন করে জীবন পেয়েছি আমি।
গাজায় যুদ্ধবিরতির চুক্তির অংশ হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় ১,৮০০ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেয়া হয়েছে ইসরাইলি কারাগার থেকে। তবে এখানো ইসরাইলের কারাগারে অবৈধভাবে বন্দি করে রাখা হয়েছে ১১ হাজার ৪৬০ জন ফিলিস্তিনিকে।
অন্যদিকে, ইসরাইলের কাছে মঙ্গলবার আরো চার জিম্মির মরদেহ ফিরিয়ে দিয়েছে হামাস। এ নিয়ে আটজনের মরদেহ বুঝে পেয়েছে ইসরাইল।
তবে, বাকি ২০ জিম্মির মরদেহ ফিরিয়ে না দেয়া পর্যন্ত গাজায় ত্রাণ প্রর্বেশ অর্ধেক করার ঘোষনা দিয়েছিলো তেল আবিব। পরে হামাস সব মরদেহ ফেরত দিবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয়ার পর ত্রাণ প্রবেশ সীমিত করার সিদ্ধান্ত বাতিল করে ইসরাইলের মন্ত্রিসভা।
এরই মধ্যে, হামাসকে নিরস্ত্র করার হুশিয়ারি দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এছাড়া, জিম্মিদের সবার মরদেহ ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, জিম্মিদের মরদেহ ফিরিয়ে আনার কোন চেষ্টা আমরা বাকি রাখবো না। এ বিষয়ে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সবার মরদেহ তাদের স্বজনদের কাছে পৌছে দেবো আমরা। হামাস অস্ত্র ত্যাগ না করলে তাদেরকে নিরস্ত্র হতে বাধ্য করা হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
এর আগে, ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে তিনি জানান, গাজায় যুদ্ধবিরতির চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়েছে। ট্রাম্প লেখেন, তারা যদি অস্ত্র ত্যাগ না করে তাহলে আমরা বাধ্য করবো। আর এটি হবে খুবই দ্রুত এবং সহিংস পথে।
এদিকে, গাজা সিটির আল রানতিসি শিশু হাসপাতালের জীবন রক্ষাকারী খুবই মূল্যবান অনেক যন্ত্রপাতি ইসরাইল হামলা চালিয়ে ধ্বংস করেছে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ। এর ফলে চিকিৎসার অভাবে হাজারো শিশুর মৃত্যুর আশঙ্কার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
