জাপানের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সানায়ে তাকাইচি।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে তিনি দেশটির নিম্ন ও উচ্চ—দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছেন।
বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, অপ্রত্যাশিতভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে নিযুক্ত ৬৪ বছর বয়সী এই নারী মঙ্গলবার সম্রাটের সঙ্গে দেখা করার পর আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
গত পাঁচ বছরের মধ্যে তাকাইচি জাপানের চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী। তিনি এমন এক সময় ক্ষমতায় এলেন, যখন এলডিপি রাজনৈতিক কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত। তাদের জনসমর্থনও বেশ কমে যাচ্ছে।
ঠিক এমন এক সময়ে তাকাইচির জয় গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, জাপান এখনো লিঙ্গসমতার ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে।
তবে জাপানি তরুণীদের অনেকেই বিবিসিকে বলেছেন, তারা নিশ্চিত নন যে রক্ষণশীল তাকাইচি নারীর অধিকারকে এগিয়ে নেবেন কি না।

তাকাইচি অবশ্য প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, তিনি নারীদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যাগুলো নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে চান। নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে তিনি মেনোপজ বা ঋতু বন্ধ হওয়া নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। তবে তিনি দাম্পত্য আইন পরিবর্তনের বিপক্ষে, যেখানে স্বামী-স্ত্রীকে একই পদবি বহন বাধ্যতামূলক এবং রাজপরিবারে নারী উত্তরাধিকার নিষিদ্ধ রাখার পক্ষে।
এলডিপির নেতা নির্বাচনের দৌড়ে থাকা ৫ প্রার্থীর মধ্যে তাকাইচিই ছিলেন একমাত্র নারী। তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় মূলত ৪৪ বছর বয়সী শিনজিরো কোইজুমির সঙ্গে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দল সাবেক অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রী তাকাইচিকেই তাদের নতুন কাণ্ডারি হিসেবে বেছে নেয়।
রয়টার্স জানিয়েছে, জাপানের পার্লামেন্টের কম ক্ষমতাসম্পন্ন উচ্চকক্ষ তাকাইচিকে অনুমোদন করবে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে।
তেমনটি হলে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় জাপানের ১০৪তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন তিনি। বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার স্থলাভিষিক্ত হবেন তিনি।
ইশিবা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালেই এলডিপি ও এর জোটসঙ্গীরা জাপানের পার্লামেন্টের উভয়কক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়। সে ধাক্কাতেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এক বছর পার হওয়ার আগেই ইশিবাকে পদত্যাগ করতে হয়।
১৪০০ পারমাণবিক কর্মীকে অবৈতনিক ছুটিতে পাঠালো যুক্তরাষ্ট্র