দিল্লিতে লাল কেল্লার কাছে আত্মঘাতী গাড়ি বোমা হামলাকারীর এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)। খবর এনডিটিভির।
রোববার (১৬ নভেম্বর) তাকে দিল্লি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়ে বলে জানিয়েছে এনআইএ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম আমির রশিদ আলী। তিনি জম্মু ও কাশ্মীরের পাম্পোরের বাসিন্দা।
এনআইএর তদন্ত বলছে, আমির রশিদ আলী দিল্লিতে এসেছিলেন ম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) স্থাপিত গাড়িটি ক্রয়ের ব্যবস্থা করতে। হামলায় ব্যবহৃত সাদা আই-২০ গাড়িটি তার নামে নিবন্ধিত ছিলো। তাকে আত্মঘাতী বোমা হামলার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে।
এনআইএ তদন্তে একটি অত্যন্ত সংগঠিত ‘হোয়াইট-কলার’ জঙ্গি মডিউলের সন্ধান পেয়েছে, যার সঙ্গে পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদের যোগ রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে এই মডিউলে একাধিক শিক্ষিত ও পেশাদার ব্যক্তির জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে।
এই মামলার তদন্ত চলাকালীন এর আগেও আরও কয়েকজন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো, যার মধ্যে কয়েকজন চিকিৎসকও রয়েছেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফরিদাবাদ থেকে বিশাল পরিমাণ বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করে এনআইএ।
দিল্লির লাল কেল্লার কাছে একটি সাদা আই-২০ গাড়িতে ভর্তি করা আইইডি বিস্ফোরণ ইতিমধ্যে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। আত্মঘাতী হামলাকারী ছিলেন ড. উমর উন্নাবী, যিনি হরিয়ানার ফরিদাবাদের আল ফালাহ মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক ছিলেন। ফরেনসিক ডিএনএ পরীক্ষায় তার পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে, তার জৈবিক নমুনা তার মায়ের সাথে মিলে গেছে। বিস্ফোরণের পর উমরের একটি পা স্টিয়ারিং হুইল এবং অ্যাক্সিলারেটরের মধ্যে আটকে পড়ে, যা ইঙ্গিত করে ওই গাড়ির চালক তিনিই ছিলেন।
এনআইএ দিল্লি পুলিশ, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ, হরিয়ানা পুলিশ, উত্তরপ্রদেশ পুলিশ এবং অন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
এই হামলা ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও নির্দিষ্ট কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি যোগসূত্র এখনও প্রকাশিত হয়নি। কর্তৃপক্ষগুলো এখন আরও সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত করে সম্ভাব্য হুমকি প্রশমনের চেষ্টা করছেন। এই গ্রেপ্তার হামলার পেছনের গল্প উন্মোচনের নতুন দরজা খুলে দিয়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
