ইউক্রেন-রাশিয়ার চলমান যুদ্ধের ইতি টানতে ক্রেমলিনের নেতা ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে নতুন শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য মস্কো পৌঁছেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের দূত স্টিভ উইটকোফ। তার সঙ্গে রয়েছেন ট্রাম্পেন জামাতা জ্যারেড কুশনার। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস জানিয়েছ, উইটকফ মস্কোর ভনুকোভো বিমানবন্দরে অবতরণ করেছেন, যেখানে তাকে স্বাগ জানান রাশিয়ার প্রধান আলোচক কিরিল দিমিত্রিভ।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, উইটকফ এবং পুতিনের মধ্যে বৈঠকটি মস্কো সময় সন্ধ্যা ছয়টার পরে শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং যতক্ষণ সময় লাগে তা চলবে। তিনি আরও বলেন, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারও আলোচনায় অংশ নেবেন।
চলতি বছরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফের এই নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো রাশিয়া সফর করছেন এবং এবার তাঁর সঙ্গী হয়েছেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন ইউক্রেনে স্থায়ী শান্তি আলোচনার নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে।

দু’সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র কিয়েভের কাছে একটি ২৮ দফা শান্তি পরিকল্পনা পেশ করেছিল। এতে ব্যাপকভাবে মস্কোর অনুকূলে অনেক বেশি ঝুঁকে থাকা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান শর্ত হল ইউক্রেনকে ডনবাসের যে অংশগুলো এখনও তার নিয়ন্ত্রণে আছে, তা ছেড়ে দিতে হবে।
এই প্রস্তাবনার পর জেনেভা এবং ফ্লোরিডায় মার্কিন-ইউক্রেনীয় আলোচনা হয়েছে। সেই আলোচনার ভিত্তিতে একটি সংশোধিত পরিকল্পনা এবার ক্রেমলিনের কাছে পেশ করা হবে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মূল খসড়া প্রস্তাবটি সম্পর্কে বলেছিলেন, এটি ভবিষ্যতের চুক্তির ভিত্তি হতে পারে।
কিন্তু তিনি আপষের জন্য সামান্যই আগ্রহ দেখিয়েছেন। পুতিন মনে করেন যে রাশিয়া যুদ্ধক্ষেত্রে জয়ী হচ্ছে এবং যে কোনো চুক্তির শর্ত নির্দেশিত করতে সক্ষম। গত রাতে রাশিয়ার টিভি চ্যানেলে পুতিনকে সামরিক পোশাকে দেখা যায়। তাঁর কমান্ডাররা তাঁকে জানায়, রুশ বাহিনী ইউক্রেনের পোক্রোভস্ক দখল করেছে।
ভূমি দখলের দাবি ছাড়াও, মস্কো ক্রমাগত জোর দিয়ে আসছে যে ইউক্রেন যেন ন্যাটোতে যোগ না দেওয়ার অঙ্গীকার করে এবং তাদের সেনাবাহিনীর আকার নির্দিষ্ট সংখ্যার বাইরে নেয়া যাবে না। এই সফরে সংশোধিত পরিকল্পনাটি পুতিনকে দেয়া হবে এবং এরপর মস্কোর মনোভাবের প্রেক্ষিতে ফল কী হয় তা দেখার বিষয়।
তবে মার্কিন ব্যবসায়ী উইটকফ এবং কুশনারের সঙ্গে পুতিনের বৈঠকের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ক্রেমলিন ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আপষের বিষয়ে তাদের অনীহা আরও একবার স্পষ্ট করেছে। মুখপাত্র পেসকভ জানান, মস্কো যে কোনো আলোচনাকে ইউক্রেনে তাদের সামরিক লক্ষ্য অর্জনের একটি উপায় হিসেবেই দেখে।
পেসকভ বলেন, রাশিয়া শান্তি আলোচনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে, তবে এই শান্তি আলোচনার মাধ্যমে আমাদের 'বিশেষ সামরিক অভিযান'-এর অংশ হিসেবে নির্ধারিত লক্ষ্যগুলো অবশ্যই অর্জন করতে হবে।তাঁর এই মন্তব্য সরাসরি ইঙ্গিত দেয় মস্কো যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের সুবিধাগুলো টেবিলে আনতে চায় এবং বড় ছাড় দিতে নারাজ।

পেসকভ এ সময় সাবেক ট্রাম্পের প্রস্তাবিত যুদ্ধ-মীমাংসা পরিকল্পনার প্রশংসা করেন, যদিও তিনি সেই প্রস্তাবগুলোর বর্তমান নির্দিষ্ট রূপরেখা কী, তা উল্লেখ করেননি। পেসকভ বলেন, এজন্য ট্রাম্পের পরিকল্পনাটি একটি খুব ভালো ভিত্তি এবং আমরা সেই ভিত্তির ওপর স্থির থাকতে পারব বলে আশা করি।
গত মাসের শেষের দিকে ওয়াশিংটন প্রশাসন ইউক্রেনকে যে প্রস্তাবনা দিয়েছিল, তাতে রাশিয়ার অনুকূলে থাকা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। যেমন, বর্তমানে ইউক্রেনীয় বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চলগুলো থেকে সরে আসার দাবি।
যদিও পরে মার্কিন এবং ইউক্রেনীয় দলের মধ্যে আলোচনার ফলে ওই প্রস্তাবনায় কিছু সংশোধনী আনা হয়েছে বলে খবর রয়েছে, তবে ঠিক কী কী পরিবর্তন হয়েছে তা এখনও অস্পষ্ট।
ক্রেমলিনের বর্তমান কঠোর অবস্থান থেকে অনুমান করা যায়, সংশোধিত পরিকল্পনাতেও মস্কোর মূল দাবিগুলো অপরিবর্তিত বা সামান্য পরিবর্তিত অবস্থাতেই থাকছে। পুতিনের সঙ্গে উইটকফের এই উচ্চ-পর্যায়ের আলোচনা মস্কো-কিয়েভ সংকটের কূটনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
