ইউক্রেন যুদ্ধে অবসানে যখন মায়ামিতে উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে, ঠিক তখনই ওডেসার কৌশলগত বন্দরে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। শুক্রবার রাতের এই হামলায় অন্তত ৮ জন নিহত এবং ২৭ জন আহত হয়েছে। চতুর্থবারের মতো হাড়কাঁপানো শীতের কবলে পড়া ইউক্রেনের ওডেসায় এই হামলার ফলে প্রায় ২০ লাখ মানুষ বিদ্যুৎ, পানি ও তাপহীন অবস্থায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের মতে, শুক্রবার রাতের হামলাটি ওডেসার গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়। হামলার সময় একটি যাত্রীবাহী বাস আগুনের কবলে পড়লে বেশ ক’জন ভেতরে আটকা পড়েন। শনিবারও একই বন্দরে রুশ বাহিনী হামলা চালিয়ে জ্বালানি ও পানি সংরক্ষণাগার ধ্বংস করে দিয়েছে। ইউক্রেন কর্তারা একে বেসামরিক সরবরাহ রুট লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হামলা বলে অভিহিত করেছেন।
রণক্ষেত্রে যখন পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে বড় ধরনের বৈঠক চলছে। মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের নেতৃত্বে এই আলোচনায় ইউক্রেনের মধ্যস্থতাকারী রুস্তম উমেরভ এবং যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। রুশ প্রতিনিধি কিরিল দিমিত্রিভও এই আলোচনায় যোগ দিতে মায়ামিতে পৌঁছেছেন।

তবে আলোচনার মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভূখণ্ড ছাড় দেওয়ার বিষয়টি। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তার বার্ষিক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করেছেন, তিনি অধিকৃত চারটি অঞ্চল এবং ক্রিমিয়ার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চান। অন্যদিকে ইউক্রেন জানিয়েছে, তারা কোনো ভূখণ্ড ছাড় দিয়ে শান্তিতে রাজি নয়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ইউক্রেনকে কোনো চুক্তিতে বাধ্য করবে না, কারণ তিনি এই যুদ্ধকে সরাসরি ‘আমাদের যুদ্ধ নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন।
রাশিয়া দাবি করেছে তারা দনেৎস্কের সভিতল এবং সুমি অঞ্চলের ভিসোকে গ্রাম দখল করেছে। তবে ইউক্রেনও পাল্টা আঘাত হানছে। শুক্রবার রাতে কাস্পিয়ান সাগরে রাশিয়ার জ্বালানি জায়ান্ট ‘লুকোয়েল’-এর একটি তেলবাহী রিগ এবং একটি সামরিক জাহাজে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থার মতে, গত সপ্তাহেও কৃষ্ণ সাগরে রুশ সাবমেরিনে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনীয় বাহিনী।

পুতিন রণক্ষেত্রে রাশিয়ার একচ্ছত্র আধিপত্যের দাবি করলেও কুপিয়ানস্ক ও পোকরোভস্ক শহরে ইউক্রেনীয় বাহিনীর কঠোর প্রতিরোধের মুখে রুশ অগ্রগতি থমকে গেছে।
যুদ্ধের এই কঠিন সময়ে ইউরোপীয় নেতাদের কাছ থেকে বড় ধরনের সহায়তা পেয়েছে ইউক্রেন। আগামী দুই বছরের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাহিদা মেটাতে ৯০ বিলিয়ন ইউরো ঋণ দিতে সম্মত হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশতে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি পোলিশ প্রেসিডেন্ট করোল নাওরোকির সাথে বৈঠক করে আঞ্চলিক ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। জেলেনস্কি বলেন, এই অর্থ যুদ্ধ চললে প্রতিরক্ষায় আর শান্তি ফিরলে পুনর্গঠনে ব্যয় করা হবে।
মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে ইরানে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর