ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মন্তব্য করেছেন যে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান দেশটির সাধারণ মানুষের জন্য ‘সন্ত্রাসী শাসন’ থেকে মুক্তি পাওয়ার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
জেলেনস্কি বলেন, ইরানের জনগণকে এই সন্ত্রাসী শাসন থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ দেওয়া এখন ন্যায্য একটি বিষয়। কারণ এই শাসনব্যবস্থা থেকে উৎপন্ন সন্ত্রাস কেবল ইউক্রেন নয়, বরং সারা বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের এই কঠোর অবস্থানের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ইরান মস্কোকে হাজার হাজার ‘শাহেদ’ ড্রোন ও স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করে আসছে।
জেলেনস্কি দাবি করেন, এ পর্যন্ত রাশিয়া ইউক্রেনের সাধারণ মানুষ, শহর ও জ্বালানি খাতের ওপর ৫৭ হাজারেরও বেশি শাহেদ-ধরণের ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইউক্রেন কখনও ইরানকে কোনো হুমকি দেয়নি, কিন্তু ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা স্বেচ্ছায় পুতিনের সহযোগী হওয়ার পথ বেছে নিয়েছে। তবে যখনই আমেরিকা এমন দৃঢ় অবস্থান নেয়, তখনই বৈশ্বিক অপরাধীরা দুর্বল হয়ে পড়ে।
এর আগে ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের সাধারণ মানুষ শান্তি ও নিরাপত্তায় বসবাসের যোগ্য। কিন্তু বর্তমান শাসকগোষ্ঠী নিজ দেশের শান্তিকামী বিক্ষোভকারীদের ওপর যে দমন-পীড়ন ও হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে, তা-ই আজ দেশটিকে এই সংঘাতের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
কিয়েভ মনে করে, ইরানের এই শাসনের অবসান ঘটলে কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং ইউরোপের নিরাপত্তাও আরও সুসংহত হবে।
ইসরাইল ও মার্কিন ঘাঁটিতে অবিরাম হামলা চলবে: ইরান