হোয়াইট হাউসের পর্দার আড়ালে নতুন এক ঝড়ের নাম- আমান্দা উঙ্গারো। ৪১ বছর বয়সী এই প্রাক্তন ব্রাজিলিয়ান মডেল এবং কূটনীতিক এখন স্বয়ং ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের জন্য এক মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছেন। একদিকে যখন মেলানিয়া ট্রাম্প কুখ্যাত জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই বলে সরাসরি দাবি করছেন, ঠিক তখনই আমান্দা উঙ্গারো সোশ্যাল মিডিয়ায় একে একে বোমা ফাটিয়ে চলেছেন। তার দাবি, মেলানিয়া ও তার স্বামীর ‘দুর্নীতিগ্রস্ত সিস্টেম’ তিনি গুঁড়িয়ে দেবেন।

আমান্দা উঙ্গারো শুধু একজন মডেলই নন, তিনি ছিলেন আভিজাত্যের শিখরে থাকা এক ব্যক্তিত্ব। প্রায় ১৯ বছর তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং ইতালীয়-মার্কিন ব্যবসায়ী পাওলো জাম্পোলির জীবনসঙ্গিনী ছিলেন। এই জাম্পোলিই ১৯৯৮ সালে মেলানিয়া ও ট্রাম্পের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন বলে পরিচিত। আমান্দা এক সময় জাতিসংঘের হয়ে গ্রেনাডার রাষ্ট্রদূত হিসেবেও কাজ করেছেন। ট্রাম্পের ২০১৭ সালের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানেও তিনি ছিলেন প্রথম পরিবারের বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি।
মধুর সম্পর্ক যখন তিক্ত লড়াইয়ে: আমান্দার অভিযোগের তীর সরাসরি মেলানিয়া ট্রাম্পের দিকে। তিনি এক্সে লেখেন, ২০ বছর ধরে তিনি মেলানিয়াকে চেনেন। এমনকি ট্রাম্পের সিক্রেট সার্ভিস তার ছেলের জন্মদিনে প্রথম অভিনন্দন পাঠাত। কিন্তু ২০২৩ সালে জাম্পোলির সঙ্গে বিচ্ছেদের পর আমান্দার জীবন পাল্টে যায়। ফ্লোরিডায় নতুন করে জীবন শুরু করলেও, একটি জালিয়াতির মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীতে দেখা যায় তার ভিসার মেয়াদ বহু বছর আগেই শেষ হয়ে গেছে।

এরপরই তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্রাজিলে নির্বাসিত করা হয়। আমান্দার দাবি, এই গ্রেপ্তারের পেছনে মেলানিয়ার হাত রয়েছে এবং তিনি তাকে এক ‘অশুভ মিশনে’ জড়াতে চেয়েছিলেন। তার ক্ষোভভরা মন্তব্য, ‘আমার আর হারানোর কিছু নেই। আমি পুরো সিস্টেম ছিঁড়ে ফেলব, সাবধান থেকো মেলানিয়া’।
সেই রহস্যময় ‘ললিটা এক্সপ্রেস’ এবং এপস্টাইন সংযোগ: এই মুহূর্তে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো জেফরি এপস্টাইনের সাথে আমান্দার পুরনো স্মৃতি। আমান্দা জানান, ২০০২ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে তিনি এপস্টাইনের ব্যক্তিগত বিমান ‘ললিটা এক্সপ্রেসে’ চড়েছিলেন। সেখানে তিনি দেখেছিলেন জঁ-লুক ব্রুনেল (এপস্টাইনের স্কাউট) এবং বান্ধবী ঘিসলাইন ম্যাক্সওয়েলকে।

আমান্দার বর্ণনায় সেই বিমানে কম বয়সী মেয়েদের এপস্টাইনের কোলে বসে থাকা বা ঘনিষ্ঠ হয়ে থাকার দৃশ্য ছিল অত্যন্ত ভীতিকর। যদিও আমান্দা দাবি করেছেন তিনি সেই ঘটনার পর কোনোদিন এপস্টাইনকে আর দেখেননি, তবুও তার এই বয়ান মেলানিয়ার ‘এপস্টাইনকে চিনি না’ দাবির মুখে এক বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে।
কূটনৈতিক দাবার ঘুঁটি: আমান্দার প্রাক্তন সঙ্গী পাওলো জাম্পোলি স্বীকার করেছেন, তিনি আমান্দার গ্রেপ্তারের পর এক ঊর্ধ্বতন আইসিই কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তবে তার দাবি ছিল তিনি শুধু পরিস্থিতি জানতে চেয়েছিলেন, কোনো বিশেষ সুবিধা চাননি। অন্যদিকে, মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানিয়েছে, আমান্দাকে সরানো হয়েছে শুধু অভিবাসন আইন ভঙ্গের কারণে।

আমান্দা উঙ্গারো এখন ব্রাজিল থেকে যুদ্ধের ডাক দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, মেলানিয়া এবং তার স্বামীর ‘বিকৃত’ রূপ তিনি ফাঁস করে দেবেন। এই লড়াই কি শুধু এক নির্বাসিত নারীর প্রতিশোধ, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে হোয়াইট হাউসের কোনো গভীর অন্ধকার রহস্য, তা সময়ই বলে দেবে।
‘হয়তো তোমার ভয় পাওয়া উচিত যে আমি কী জানি... তুমি কে এবং তোমার স্বামী আসলে কে?’ আমান্দার এই একটি বাক্য এখন কাঁপিয়ে দিচ্ছে ট্রাম্প পরিবারের ড্রয়িং রুম।
তথ্যসূত্র: নিউজউইক ও এনডিটিভি
