বিশ্বের ধনী দেশগুলোর ফোরাম জি-২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে এক নজিরবিহীন কূটনৈতিক ড্রামা! রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে এক ফ্রেমে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ইউরোপীয় প্রতিনিধিরা। আর এতেই মহা বিপাকে পড়ে আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র। বাধ্য হয়ে শেষ মুহূর্তে বাতিল করতে হলো সম্মেলনের বহুল প্রতীক্ষিত ও ঐতিহ্যবাহী ‘ফ্যামিলি ফটো’!
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আতিথেয়তায় আয়োজিত সম্মেলনে লাভরভের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে শুরু থেকেই টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল। শুক্রবার নির্ধারিত সেই ফটোসেশন বাতিলে বাধ্য হয়ে এক মার্কিন কর্মকর্তা সোজা জানান, ফটোসেশন নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত কূটনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি না করে আমরা মূল আলোচনাতেই মনোযোগ ধরে রাখতে চেয়েছি।
ছবি তোলার নাটক শেষ হতে না হতেই হলে শুরু হয় শব্দের লড়াই! লাভরভের দিকে সরাসরি তাকিয়ে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড কড়া ভাষায় তোপ দাগেন। তিনি বলেন, এই যুদ্ধে কে আসল আগ্রাসী, তা আমরা সবাই জানি। পুতিনের এই বর্বর যুদ্ধকে টিকিয়ে রাখার রাজস্ব যাতে বন্ধ হয়, সেজন্য আমাদের সবাইকে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে।
মজার ব্যাপার হলো, এ বারের সম্মেলনে ইউক্রেনকে কিন্তু আমন্ত্রণ জানানোই হয়নি! অথচ ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের জ্বালানির দাম কমাতে রাশিয়ার ডিজেল আমদানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। ক্রেমলিনের সঙ্গে মার্কিন সরকারের সম্পর্কের এমন 'হঠাৎ সুবাতাস' ও ট্রাম্প-পুতিন সমঝোতা মোটেও ভালোভাবে নেয়নি ইউক্রেন ও ইউরোপীয় মিত্ররা। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি একে পুতিনের জন্য ট্রাম্পের ‘বিশেষ উপহার’ বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন।
তবে ওয়াশিংটনের দাবি, পুতিনকে আলোচনার টেবিলে ধরে রাখতেই এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে। এমনকি ড্যামেজ কন্ট্রোল হিসেবে ইউক্রেনকে ২০০ কোটি ডলারের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদনও দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই দ্বিমুখী কূটনৈতিক চাল, অন্যদিকে ইউরোপীয়দের লাভরভ বয়কট—সব মিলিয়ে আটলান্টার বাইশ গজে এখন বিশ্ব রাজনীতির দারুণ মসলাদার ড্রামা তুঙ্গে!
তথ্যসূত্র: বিবিসি
