মিয়ানমারে জান্তা সরকারের ঘুম হারাম করে দিয়েছে দেশটির সম্মিলিত সশস্ত্র বিদ্রোহীরা। দেশটির সীমান্তে এলাকায় একের পর এক প্রদেশ ও অঞ্চল দখলে নিয়ে দিচ্ছে এসব গোষ্ঠিগুলো। প্রতিদিনই একটু একটু করে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে জান্তা বাহিনী। সব মিলিয়ে দৌড়ের ওপর আছে দেশটির উর্দিধারী শাসকরা।
মাত্র চার দিনে মিয়ানমারের তিন প্রদেশ ও দুটি অঞ্চলে জান্তা বাহিনীর আরও কয়েকটি ঘাঁটি দখল নিয়েছে পিপলস ডিফেন্স ফোর্সেস- পিডিএফ এবং জাতিগত সশস্ত্র বিদ্রোহীরা। রাখাইন, কাচিন, মন প্রদেশ, সাগাইং ও বাগো অঞ্চলে এসব ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে জান্তা বাহিনী।
এ বিষয়ে আরাকান আর্মি- এএ বলেছে, তিন দিন লড়াইয়ের পর কাচিন প্রদেশে মান্দালয়-মিতকিনিয়া সড়কে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি সেনাঘাঁটি দখল করেছে তারা। মানসি শহরের শিখাঙ্গি এলাকার ঘাঁটি রক্ষয় ৬০টির বেশি বিমান হামলা চালিয়েও ব্যার্থ হয়েছে জান্তারা।
মিয়ানমারের গণমাধ্যম ইরাবতি জানাচ্ছে, রাখাইনের মংডুতে আরেকটি ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণসহ মন প্রদেশে সেনা কমান্ড সদর দপ্তরে বোমা হামলা চালিয়েছে বিদ্রোহীরা। সাগাইংয়ে বিদ্রোহীদের বোমা হামলাসহ বাগোতে দুই জান্তা নিহত হয়েছেন। বাকিরা বিদ্রোহীদের কাছে আত্মসমর্পন করেছে।
এছাড়া বিদ্রোহীরা মোন রাজ্যের সামরিক কমান্ড সদর দপ্তরে বোমা হামলা, সাগাইং অঞ্চলের মনিওয়া টাউনশিপের মনিওয়া-চাং-ইউ রোডের একটি পেট্রোলিয়াম স্টেশনে স্বয়ংক্রিয় বিমান হামলা, বাগো অঞ্চলে সিটাং নদীর উপর 'কিউই ওয়াইন পিন' ব্রিজ ক্রসিংয়ে ড্রোন হামলা চালায়।
আরাকান আমি দাবি করেছে, ঘাঁটি রক্ষায় রাখাইন রাজ্যের রামরি শহরে সামরিক বাহিনী ব্যাপক বোমাবর্ষণ করছে। এতে শহরটির একটি সরকারি হাসপাতাল ও একটি বাজার ধ্বংস হয়ে গেছে। বোমার আঘাতে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে অনেক বেসামরিক ঘরবাড়িও। মারা গেছে বেসামরিক লোকজনও।
রামরি ছাড়াও রাখাইনের রাজধানী সিত্তেসহ পোনাগিউন, রাথেডং ও বুথিডংয়ের বিভিন্ন শহর ও গ্রামের আবাসিক এলাকায় কামানের গোলা নিক্ষেপ করেছে জান্তা বাহিনী। আরাকান আর্মি জানিয়েছে, পোনাগিউনের আলাল সু শহরের একটি আবাসিক এলাকা পুড়িয়েছে দিয়েছে জান্তা সেনারা।
গেলো নভেম্বর থেকে রাখাইনে ব্যাপক পরিসরে হামলা চালানো শুরু করে আরাকান আর্মি। তখন থেকে রাখাইন ও পাশের চীন রাজ্যে জান্তা বাহিনীর ১৭০টির বেশি ঘাঁটি ও ছয়টি শহর দখল করেছে তারা। এই দুই রাজ্যের অন্য ঘাঁটিগুলোতে থাকা জান্তা সেনাদের আত্মসমর্পণের আহবানও জানিয়েছে আরাকান আর্মি।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে রাখাইনের রাজধানী সিত্তে পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে জান্তা বাহিনী। শহরটিতে উড়োজাহাজ ছাড়া প্রবেশের কোনো উপায় নেই। আরাকান আর্মির অগ্রগতির মুখে অনেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা সিত্তে ছেড়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে। রাজধানী ছেড়ে পালাচ্ছেন অনেক বাসিন্দাও।
উত্তর রাখাইন থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করছে জান্তা