রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে জেনেভায় আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের ত্রিপাক্ষিক বৈঠকটি কোনো সুনির্দিষ্ট ঐক্যমত্য ছাড়াই শেষ হয়েছে। মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ আলোচনার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও, রাশিয়ার প্রধান মধ্যস্থতাকারী এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি উভয়েই জানিয়েছেন, আলোচনার পথ অত্যন্ত বন্ধুর ছিল।
ইউক্রেনীয় কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ফ্রন্টলাইনের অবস্থান এবং যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণের মতো কিছু সামরিক ইস্যুতে সামান্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতির প্রধান শর্ত অর্থাৎ ভূখণ্ডগত মালিকানার প্রশ্নে উভয় পক্ষ এখনো অনড়। মস্কো পূর্ব ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চলের (দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক) পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দাবি করছে, যা ইউক্রেনের কাছে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া ইচ্ছা করে আলোচনা দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, ক্রেমলিনের আলোচক ভ্লাদিমির মেডিনস্কি বৈঠকটিকে পেশাদারী বলে বর্ণনা করেছেন এবং জানিয়েছেন যে খুব শীঘ্রই পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসার জন্য চাপ দিচ্ছেন। গত সোমবার তিনি বলেছিলেন, ইউক্রেনের উচিত দ্রুত সমঝোতায় আসা। তবে জেলেনস্কি এই চাপকে অন্যায্য বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
জেলেনস্কির মতে, ১৯৩৮ সালের মিউনিখ চুক্তির মতো কোনো ভুল ইউক্রেন করবে না এবং ডনবাস হস্তান্তরের প্রস্তাব গণভোটে দিলেও ইউক্রেনীয়রা তা প্রত্যাখ্যান করবে।
পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র: ইউরোপের বৃহত্তম জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও বিরোধ কাটেনি। ইউক্রেন কেন্দ্রটি ফেরত চায় এবং প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যৌথ নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব দিয়েছে, যা রাশিয়ার মেনে নেওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
ইউরোপীয়দের ভূমিকা: যুক্তরাষ্ট্র এই আলোচনার নেতৃত্বে থাকলেও ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি এবং ইতালির প্রতিনিধিরা পার্শ্ববৈঠকে অংশ নিয়েছেন। জেলেনস্কি স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো চূড়ান্ত চুক্তির জন্য ইউরোপীয় দেশগুলোর অংশগ্রহণ "অপরিহার্য"।
বন্দী বিনিময়: গত জানুয়ারিতে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকের ধারাবাহিকতায় খুব শিগগিরই নতুন করে বন্দী বিনিময়ের ইঙ্গিত দিয়েছেন জেলেনস্কি।
আগামী মঙ্গলবার ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণের চার বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে। গত চার বছরে হাজার হাজার সামরিক ও বেসামরিক প্রাণহানি এবং লাখ লাখ মানুষের বাস্তুচ্যুতির পর ন্যায়সংগত শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ এখনো অনিশ্চয়তার চাদরে ঢাকা।
