গাজায় ত্রাণ সরবরাহের পথ খোলার ইসরাইলি ঘোষণার পর পরই অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় প্রতিদিন ৩৫০ ত্রাণবাহী ট্রাক ঢুকবে বলে জানিয়েছে ইসরাইলের মন্ত্রিসভা। শুক্রবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা জানিয়েছে, কারেম আবু সালেম (কারেম শালোম) ক্রসিং দিয়ে দক্ষিণ ইসরাইলের মধ্য দিয়ে গাজায় ২৫০টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করবে। আর ১০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক মিসরের রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং দিয়ে প্রবেশ করবে।
ইসরায়েল ঘোষণা দিয়ে বলেছে, উত্তর গাজায় বাইত হানুন (ইরেজ) ক্রসিং খুলবে। এছাড়া আশদোদ বন্দরের মাধ্যমে গাজায় সাময়িক সহায়তা সরবরাহের অনুমতি দেবে তারা।
সোমবার ইসরাইলি হামলায় সেলিব্রিটি শেফ জোসে আন্দ্রেসের দাতব্য সংস্থা ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেন গ্রুপের সাত কর্মী নিহত হন। এর প্রেক্ষিতে গাজা উপত্যকায় ত্রাণ কার্যক্রম স্থগিত করে আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলো।
বুধবার রয়টার্সকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে আন্দ্রেস বলেছিলেন, ইসরাইল ‘পরিকল্পিতভাবে’ তার সাহায্য কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করেছিল।
তবে বৃহস্পতিবার ইসরাইল বলে, গাজা যুদ্ধের কৌশলগুলোতে ভুল হওয়ায় এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার তদন্তের ফলাফল শিগগিরই প্রকাশ করা হবে বলেও আশ্বস্ত করেছে দেশটি।
এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক ফোনালাপে বলে হুমকি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজায় বেসামরিক ও মানবিক কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিতে ব্যর্থ হলে ইসরাইল সম্পর্কিত মার্কিন নীতি পরিবর্তন করবে।
গাজায় বেসামরিক ও মানবিক কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিতে ইসরাইলকে চাপ দিতে প্রথমবারের মতো বাইডেনের এমন হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টা পরই শুক্রবার দুর্ভিক্ষের হুমকির মুখে পড়া অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার উত্তরাঞ্চলে ইসরাইল ‘অস্থায়ী’ ত্রাণ বিতরণের অনুমতি দেবে বলে ঘোষণা দেয় ইসরাইল।
গাজায় অনাহার ও পানিশূন্যতায় ৩১ শিশুর মৃত্যু