ইরানে জানুয়ারি মাসে ঘটে যাওয়া সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ট্রাম্পের দেয়া ৩২ হাজার মানুষের মৃত্যুর অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘প্রমাণহীন’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সারিতে মাজান্দারান প্রদেশের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কাউন্সিলের এক অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন। সেখানেই ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং জানুয়ারির অস্থিরতা নিয়ে বিশ্বমঞ্চে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেয়া বক্তব্যের কড়া জবাব দেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি ইরানকে ‘শয়তানের আস্তানা’ হিসেবে চিহ্নিত করার বিদেশি অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানান।
সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, জানুয়ারির বিক্ষোভে ইরানে প্রায় ৩২ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এর জবাবে পেজেশকিয়ান বলেন, এমন দাবির পেছনে কোনো তথ্য প্রমাণ নেই। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, ইরান সরকার ইতিমধ্যে প্রতিটি নিহতের নাম এবং জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর প্রকাশ করেছে। যারা এই সংখ্যার চেয়ে বেশি মৃত্যুর দাবি করছেন, তাদের উচিত দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করা।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জানান, এই সহিংসতায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের মধ্যে দুই হাজারের বেশি মানুষ ছিলেন ‘শহীদ’, যার মধ্যে দেশের নিরাপত্তা রক্ষা করতে গিয়ে প্রাণ হারানো সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন। তিনি বিক্ষোভের নামে চালানো ধ্বংসযজ্ঞের চিত্রও তুলে ধরেন।
তিনি জানান, ৩৫০টিরও বেশি মসজিদে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে এবং ৩০০টিরও বেশি স্কুল ভাঙচুর বা ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মানে স্কুল বা উপাসনালয়ে হামলা চালানো নয়। বৈধ ভিন্নমতের ভাষা হওয়া উচিত যৌক্তিক এবং অহিংস।
নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান নিজেই দীর্ঘকাল ধরে সন্ত্রাসবাদের শিকার। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানে এ পর্যন্ত ২৮ হাজারেরও বেশি নগর সন্ত্রাসবাদের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে খোদ প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে জুমার নামাজের ইমাম এবং বিজ্ঞানীদের হত্যা করা হয়েছে। আজও ইরান তার সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ক্রমাগত হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জেনেভায় ইরান-মার্কিন পরোক্ষ আলোচনার তৃতীয় পর্ব শুরু
ইরানে হামলা: দড়ির ওপর দিয়ে হাঁটছেন মার্কিন সেনাপ্রধান