মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও সংঘাতের মুখে বিশ্বশান্তির পক্ষে এক জোরালো অবস্থান নিয়েছে চীন। ইরানের ওপর ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার তীব্র বিরোধিতা করে বেইজিং সোজা ভাষঅয় জানিয়ে দিয়েছে, বলপ্রয়োগ কখনো স্থায়ী সমাধান আনতে পারে না। খবর সিএনএন।
মঙ্গলবার রাতে ইসরাইলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডন স্যারের সঙ্গে এক ফোনালাপে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই চলমান সামরিক তৎপরতা অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানান। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বেইজিং যে কোনো আন্তর্জাতিক বা আঞ্চলিক সংকট নিরসনে আলোচনা ও পরমর্শের নীতিতে বিশ্বাসী।
ওয়াং ই অত্যন্ত দুঃখের সাথে উল্লেখ করেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক আলোচনা বেশ ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছিল, যেখানে ইসরাইলের নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাচ্ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়াটি আকস্মিক সামরিক হামলার কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। চীনের মতে, এই ধরনের আক্রমণ পরিস্থিতিকে আরও অনিয়ন্ত্রিত এবং ভয়াবহ করে তুলতে পারে।
বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, চীন ইরান বিরোধী এই সামরিক পদক্ষেপের ঘোর বিরোধী। বেইজিং মনে করে, অস্ত্রের ব্যবহার নতুন নতুন সমস্যা তৈরি করে এবং দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যুদ্ধের এই ভয়াবহতা কেবল রাজনৈতিক সংকট নয়, বরং এই অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তা ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকেও হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল বিশ্বের অন্যতম বড় অর্থনীতি হিসেবে চীন চায়, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের বদলে স্থিতিশীলতা ফিরে আসুক।
সবশেষে, চীন বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যাতে প্রতিহিংসার পথ পরিহার করে সংলাপের মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়: খামেনির জ্যেষ্ঠ সহযোগী
পঞ্চম দিনে যুদ্ধ: পাল্টাপাল্টি হামলায় জ্বলছে মধ্যপ্রাচ্য