ইরানের ওপর সামরিক আগ্রাসনের তীব্রতা বাড়িয়ে রাজধানী তেহরানে নতুন করে বিমান হামলার ঢেউ শুরু করেছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। সোমবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ হামলায় তেহরানসহ আশপাশের শহরগুলোতে নজিরবিহীন ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির খবর পাওয়া যাচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এটিই ছিল সবচেয়ে বিধ্বংসী রাত।

ইরান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,৩৩২ জনে। সরকারি মুখপাত্র ফাতেমা মোহাজেরানি দাবি করেছেন, নিহতদের মধ্যে ২০৬ জন নারী ও শিশু রয়েছে। এছাড়া কয়েক ডজন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বা হাসপাতালেও হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান।
ভারী বিমান হামলার কারণে সোমবার রাতে পুরো তেহরান বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে এবং শহর ভুতুড়ে অন্ধকারে ডুবে যায়। এক নারী জানান, প্রতি কয়েক ঘণ্টা অন্তর বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটছে। অন্য এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, একনাগাড়ে ২০ মিনিট ধরে বিমান থেকে বোমাবর্ষণ করা হয়েছে।

তেহরানের এক বাসিন্দা বলেন, বিস্ফোরণের প্রচণ্ড শব্দে আমার ঘরের দেয়ালে ফাটল ধরেছে। রাতে ঘুমানো এখন পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হামলার তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর অবস্থান নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। তেহরানের নিকটবর্তী শহর কারাজের এক নারী অভিযোগ করেছেন, ইরানি বাহিনী এখন আবাসিক এলাকাগুলোতে অবস্থান নিয়েছে।
এমনকি হাসপাতাল এবং স্কুলের মতো সংবেদনশীল জায়গাগুলোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষকে চরম বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
তাবরিজ শহরের এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, তার হাসপাতালের পাশের দুটি স্কুলকে বর্তমানে বাসিজ মিলিশিয়া এবং সশস্ত্র বাহিনী তাদের গোপন আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছে।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল আগে থেকেই ইরানকে ‘হিউম্যান শিল্ড’ বা মানব ঢাল ব্যবহারের দায়ে অভিযুক্ত করে আসছে, তবে নিরপেক্ষভাবে এর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

কারাজ এবং তেহরানের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সোমবার রাতে বিদ্যুতের ব্যাপক বিভ্রাট ঘটেছে। তবে চরম কষ্টের মাঝেও অনেকে বর্তমান শাসনের পরিবর্তনের আশায় বুক বাঁধছেন। কারাজের এক বাসিন্দা বলেন, বিদ্যুৎ নেই, খাবার নেই- সবই সহ্য করব, যদি এর বিনিময়ে এই শাসনের পতন ঘটে।
অন্যদিকে, সাধারণ ইরানিরা এক অদ্ভুত অনিশ্চয়তার মাঝে দিন কাটাচ্ছে। তেহরানের এক মা বলেন, কাল রাতে আমাদের বাড়ির খুব কাছের একটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। আক্ষরিক অর্থেই মাথার ওপর মৃত্যুর ছায়া অনুভব করেছি। তবুও আমরা শেষ পর্যন্ত টিকে থাকার জন্য লড়াই চালিয়ে যাব।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
২৪ ঘণ্টায় চার মার্কিন রাডার ধ্বংসের দাবি ইরানের