ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে ইরানি ড্রোন মোকাবিলায় সহায়তা করতে চায় কিয়েভ। তবে, এই সহায়তার বিনিময়ে অর্থ এবং উন্নত প্রযুক্তি দাবি করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই পরিকল্পনার কথা জানান। খবর রয়টার্স।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের 'কামিকাজে' বা আত্মঘাতী ড্রোনের হুমকি মোকাবিলায় কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব এবং জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে ইউক্রেন। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তিনটি দল বর্তমানে ওই অঞ্চলে অবস্থান করছে যারা ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কীভাবে পরিচালনা করতে হয়, তার হাতেকলমে প্রদর্শনী ও মূল্যায়ন করছে।
জেলেনস্কি স্পষ্ট করেছেন, ইউক্রেন সরাসরি কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নিচ্ছে না। তিনি বলেন, আমরা ইরানের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত নই। আমরা শুধু আমাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করছি। তবে এই সহায়তার বিনিময়ে তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির আশা করছেন। তিনি বলেন, আমাদের জন্য আজ প্রযুক্তি এবং অর্থায়ন- উভয়ই সমান গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য যে, উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের 'শাহেদ' ড্রোন ঠেকাতে বর্তমানে অত্যন্ত ব্যয়বহুল আকাশ প্রতিরক্ষা মিসাইল ব্যবহার করছে। অন্যদিকে, ইউক্রেন প্রতিদিন রাশিয়ার ড্রোন ঠেকাতে অনেক সাশ্রয়ী ড্রোন এবং জ্যামিং সরঞ্জাম ব্যবহার করে সফল হচ্ছে। এই সাশ্রয়ী কৌশলটিই এখন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তিনি আমেরিকার সাথে ৩৫ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল ড্রোন চুক্তি সই করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ড্রোন ভূপাতিত করার ক্ষেত্রে আমেরিকার ইউক্রেনের সাহায্যের প্রয়োজন নেই। ওয়াশিংটন কেন এই চুক্তিতে সায় দিচ্ছে না, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন জেলেনস্কি।
এছাড়া তিনি কিছু নামহীন ইউক্রেনীয় কোম্পানি এবং বিদেশি সরকারের সমালোচনা করেছেন, যারা কিয়েভের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই ড্রোন-বিরোধী সরঞ্জাম বিক্রির চেষ্টা করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ইউক্রেনের নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা মজুত কমিয়ে দিতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, আমরা চাই না মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে আমেরিকা ইউক্রেন ইস্যু থেকে দূরে সরে যাক।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যে শান্তি আলোচনা হওয়ার কথা ছিল, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় তা স্থগিত হয়ে গেছে। ওয়াশিংটন পরবর্তী আলোচনার জন্য আমেরিকার নাম প্রস্তাব করলেও রাশিয়া সেখানে যেতে রাজি হচ্ছে না।
ইউক্রেনের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে জেলেনস্কি দাবি করেছেন, রাশিয়ার পরিকল্পিত 'বসন্তকালীন অভিযান' ইতিমধেই ব্যর্থ হয়েছে। মস্কো যে গতিতে অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনা করেছিল, তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জেলেনস্কি একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে সামরিক দক্ষতা দিয়ে সাহায্য করে নিজের দেশের জন্য অর্থ ও প্রযুক্তি সংগ্রহ করতে চাইছেন, অন্যদিকে আমেরিকার ক্রমবর্ধমান উদাসীনতা এবং শান্তি আলোচনা থমকে যাওয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।
ইসরাইলে হাইপারসনিক মিসাইল হামলা চালাল ইরান
আমিরাতের মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরাইলের প্রাণকেন্দ্রে ইরানের হামলা
পরিস্থিতি আরও জটিল না করতে ফ্রান্সকে ইরানের হুঁশিয়ারি
ইরানি হামলায় বিপর্যস্ত ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষা