ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের ওপর ইসরায়েলি হামলা এখন এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে দেশটির তৃতীয় শীর্ষস্থানীয় নেতা হিসেবে গোয়েন্দা মন্ত্রী ইসমাইল খাতিবকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েল। তেহরান এখনও এই খবরের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ না করলেও, আগের দিনের দুই নেতার মৃত্যুর খবর স্বীকার করে নিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে ইসরাইলি আগ্রাসন এখন ‘নেতৃত্ব নির্মূল’ অভিযানে পরিণত হয়েছে। বুধবার দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দাবি করেছেন, তারা ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রী ইসমাইল খাতিবকে হত্যা করেছেন। যদি এই দাবি সত্য হয়, তবে এটি হবে গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরানের তৃতীয় কোনো হাই-প্রোফাইল নেতার হত্যাকাণ্ড।
এর আগে মঙ্গলবার ইসরাইলি হামলায় ইরানের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানি এবং আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ’-এর প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানি নিহত হন। বুধবার তেহরানে তাঁদের জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতেই তারা এই তিন শীর্ষ কর্মকর্তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে পেরেছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তিনি নিজে ইসরাইলি বাহিনীকে একটি বিশেষ ক্ষমতা দিয়েছেন। এখন থেকে ইরানের যে কোনো শীর্ষ কর্মকর্তাকে দেখা মাত্রই ‘হত্যা’ করার জন্য আলাদা করে অনুমতির প্রয়োজন হবে না। ইসরাইলি বিশ্লেষকদের মতে, ইসমাইল খাতিব ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন।
লারিজানির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এখনও বুঝতে পারছে না যে, ইরানের সরকার কোনো একক ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, লারিজানির মতো নেতার প্রস্থান ইরানের নেতৃত্বে কোনো বড় ধরনের ফাটল ধরাতে পারবে না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পিতভাবে ইরানের শীর্ষ স্তরের নেতাদের সরিয়ে দিচ্ছে। যুদ্ধের প্রথম দিনেই সপরিবারে নিহত হন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এরপর হামাস নেতা, হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরুল্লাহ এবং হুতিদের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আহমেদ রাহাওয়িকেও হত্যা করা হয়েছে।
ইসরাইল সংকেত দিয়েছে, তাদের এই ‘টার্গেটেড কিলিং’ বা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ না ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক অবকাঠামো পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। গোয়েন্দা মন্ত্রী খাতিবের মৃত্যুর খবর ইরানের জন্য বিশাল মনস্তাত্ত্বিক ধাক্কা। একের পর এক শীর্ষ নেতার জানাজা, অন্যদিকে শত্রুপক্ষের ক্রমাগত হামলা- সব মিলিয়ে তেহরান এখন এক চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা-রয়টার্স
লারিজানি হত্যার কঠিন প্রতিশোধ নেয়ার ঘোষণা ইরানের
পিছু হটার ইঙ্গিত ট্রাম্পের, ইরান চায় শীর্ষ নেতাদের হত্যার প্রতিশোধ
তেল আবিবে শতাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা, রাতে বড় অভিযানের হুঁশিয়ারি তেহরানের