ইরানের ইসলামিক রিভল্যুশন গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) তাদের নির্ণায়ক ও প্রতিশোধমূলক অভিযান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪'-এর ৮০তম পর্যায়ের ঘোষণা দিয়েছে। এবারের অভিযানে অধিকৃত অঞ্চলের উত্তরাংশের কৌশলগত স্থাপনা ও সামরিক কেন্দ্রগুলোর পাশাপাশি ওই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতেও শক্তিশালী হামলা চালানো হয়েছে। খবর প্রেস টিভি।
বুধবার এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর গৌরবময় অভিযান এবং ইসরাইলি আগ্রাসনের শিকার দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দাদের সমর্থনে এই সর্বশেষ ধাপটি পরিচালনা করেছে আইআরজিসি’র অ্যারোস্পেস ফোর্স।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের ভারী ও ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অধিকৃত অঞ্চলের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত কৌশলগত পয়েন্ট এবং সামরিক কেন্দ্রগুলো চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে।
আইআরজিসি আরও জানিয়েছে, উত্তর সীমান্ত বরাবর আক্রমণ ও প্রতিরক্ষা সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা সফেদ শহরের জায়নবাদী সেনাবাহিনীর সামরিক কমান্ড ছিল এই দফার অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু।
পূর্বঘোষিত অভিযানের ধারাবাহিকতা শুরু: এই হামলাগুলোকে শিশু-হত্যাকারী জায়নবাদী শাসনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক পূর্বঘোষিত অভিযানের সূচনা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বাহিনীটি সতর্ক করে বলেছে, জায়নবাদী বাহিনীর উত্তর দিকের সমাবেশস্থল এবং গাজা উপত্যকা সংলগ্ন এলাকাগুলো (গাজা বেল্ট) ভারী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হবে। আইআরজিসি জোর দিয়ে বলেছে যে, এই পাল্টা হামলা চালানোর সময় তারা বিন্দুমাত্র নমনীয়তা দেখাবে না।
আইআরজিসি আরও উল্লেখ করেছে, অধিকৃত অঞ্চলের মধ্যাংশের তেল আবিব, কিরিয়াত শমোনা এবং বেনি ব্রাকের পাশাপাশি কুয়েতের আলী আল-সালেম ও আরিফজান, জর্ডানের আল-আজরাক এবং বাহরাইনের শেখ ঈসা-তে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে তরল ও কঠিন জ্বালানিচালিত নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন দিয়ে আঘাত হানা হয়েছে।
বিবৃতির শেষে অটল সংকল্পের ইঙ্গিত দিয়ে বলা হয়েছে, এই ঢেউ অব্যাহত থাকবে...।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইসরায়েলি শাসনগোষ্ঠী ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে বিনা উসকানিতে নতুন করে আগ্রাসন শুরু করার পরপরই 'অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪' শুরু হয়। আইআরজিসি অঙ্গীকার করেছে যে, ‘চূড়ান্ত বিজয়’ অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এই প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা বজায় রাখা হবে।
পাকিস্তানের মাধ্যমে গোপনে ইরানকে ১৫ দফা মার্কিন প্রস্তাব
ট্রাম্পের দাবিকে এবার উড়িয়ে দিলো ইরানের সামরিক বাহিনী