আমেরিকা ও ইসরাইলের সাথে চলমান সংঘাতের মাঝেই ওয়াশিংটনকে নতুন করে স্নায়ুচাপের মুখে ঠেলে দিল তেহরান। ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেনারেল রেজা তালাই-নিক এক বিস্ফোরক বার্তায় জানিয়েছেন, যুদ্ধের এই পর্যায়েও ইরানের বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের একটি বড় অংশ এখনো ‘অব্যবহৃত’ রয়ে গেছে। তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার তিনি দাবি করেন, ইরান শুধু তার শক্তির সামান্য অংশই প্রদর্শন করেছে, আসল তুরুপের তাস এখনো তাদের হাতেই তোলা আছে।

জেনারেল তালাই-নিকের দাবি অনুযায়ী, গত ৪০ দিনের যুদ্ধে ইরান যে পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, তা তাদের মোট সক্ষমতার তুলনায় অতি সামান্য। তিনি বেশ দম্ভের সাথেই জানান, পুরো সংঘাত জুড়ে ইরানি বাহিনী আকাশপথে ‘জায়নবাদী’ অধিকৃত অঞ্চলের ওপর নিরঙ্কুশ আধিপত্য বজায় রেখেছে। তাঁর এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, তেহরান বিশ্বকে এই বার্তাই দিতে চাইছে, তারা যে কোনো সময় যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে এবং আমেরিকার অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাতে তারা প্রস্তুত।
শুধু আকাশপথ নয়, সমুদ্রসীমায় লড়াইয়ের ক্ষেত্রেও ইরান নিজেদের ‘আপার হ্যান্ড’ বা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকার দাবি করেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের দাবি, ওমান সাগরে ইরানি বাহিনীর রণকৌশল ও পাল্টা আক্রমণের মুখে শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজগুলো বারবার পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। এমনকি মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো কয়েকশ কিলোমিটার দূরে সরে গিয়ে আত্মরক্ষা করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ইরানের এমন দাবি পেন্ডাগনের কপালে যে নতুন করে চিন্তার ভাঁজ ফেলবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতির নাভিশ্বাস ওঠার দশা হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে আগুন লেগেছে। ইরান এই স্ট্র্যাটেজিক নৌপথকে তাদের দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করায় দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কায় কাঁপছে উন্নত দেশগুলোও।
সব মিলিয়ে, ইরানের এই নতুন ‘ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি’ যুদ্ধের পারদকে আরও উসকে দিল। একদিকে মার্কিন নৌ-অবরোধ, অন্যদিকে ইরানের অব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের হুঙ্কার- এই দ্বিমুখী উত্তজনা মধ্যপ্রাচ্যের আকাশকে আরও মেঘাচ্ছন্ন করে তুলছে। তেহরান কি সত্যিই বড় কোনো হামলার জন্য তাদের মূল অস্ত্রগুলো বাঁচিয়ে রেখেছে, না কি এটি কেবলই একটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ, তা সময় বলে দেবে। তবে আপাতত তালাই-নিকের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
