হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণ অংশে ওমান উপকূলের কাছে দুটি মার্কিন বাণিজ্যিক জাহাজ আটকা পড়ার খবর পাওয়া গেছে। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে ইরানের ফারস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, জাহাজ দুটি এমন এক দুর্গম এলাকায় অবস্থান করছে, যেখান থেকে তাদের সামনে এগিয়ে যাওয়া বা পেছনে ফিরে আসা, উভয়ই অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমান উপকূল সংলগ্ন মুসান্দাম এবং আল খিল দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি এলাকাটি অত্যন্ত পাথুরে এবং অগভীর। ভৌগোলিক কারণেই এই অঞ্চলটি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উপযুক্ত কোনো করিডোর নয়। তা সত্ত্বেও মার্কিন জাহাজগুলো এই পথে প্রবেশের চেষ্টা করায় বর্তমানে সেগুলো এক প্রকার ফাঁদে আটকা পড়েছে।

এর আগে সোমবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছিল, তাদের পতাকাবাহী দুটি জাহাজ সফলভাবে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। তবে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই দাবি নাকচ করে দেয়। এখন জানা যাচ্ছে, জাহাজগুলো মূলত নিষিদ্ধ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে আটকা পড়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমোজ প্রণালীর দক্ষিণ দিকের জলসীমা অত্যন্ত পাথুরে হওয়ায় সেখানে জাহাজ চালনা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের নিয়ম লঙ্ঘন করার পাশাপাশি ওই অঞ্চলের পরিবেশ ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমানে জাহাজ দুটির উদ্ধার তৎপরতা বা পরবর্তী অবস্থান সম্পর্কে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের পক্ষ থেকে কোনো নতুন বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে তেহরান এই পুরো পরিস্থিতিকে মার্কিন বাহিনীর কৌশলগত ব্যর্থতা এবং আঞ্চলিক অস্থিরতা তৈরির অপপ্রয়াস হিসেবে দেখছে।
এদিকে, সোমবার সন্ধ্যায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরের তেল স্থাপনায় একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। একজন অভিজ্ঞ সামরিক সূত্র দাবি করেছেন, এই অগ্নিকাণ্ডটি মূলত মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি ‘অপরিণামদর্শী অ্যাডভেঞ্চার’ বা দুঃসাহসিকতার ফল। সূত্রটির মতে, হরমুজ প্রণালীর নিষিদ্ধ জলপথ দিয়ে অবৈধভাবে জাহাজ চলাচলের একটি বিকল্প পথ তৈরি করার চেষ্টা করছিল মার্কিন বাহিনী। তাদের সেই বেআইনি ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রচেষ্টার কারণেই এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে।
