যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনার আবহেই দেশজুড়ে বিশাল সামরিক মহড়া সম্পন্ন করেছে ইরান। বৃহস্পতিবার ঐতিহ্যবাহী 'পবিত্র প্রতিরক্ষা সপ্তাহ' উদযাপন কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে একযোগে ‘জাঁনফাদায়ান-ই ইরান’ (ইরানের জন্য উৎসর্গীকৃত প্রাণ) শীর্ষক এই দেশব্যাপী শক্তি প্রদর্শন ও সামরিক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেনস্তান প্রদেশ এবং দক্ষিণ উপকূলের বন্দরনগরী বান্দর আব্বাসসহ একাধিক রণকৌশলগত স্থানে একযোগে এই মহড়া পরিচালিত হয়।



মহড়ায় ইরানের স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী (বাসিজ) এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
আয়োজক ও সামরিক আধিকারিকদের মতে, এই বিস্তৃত মহড়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল যে কোনো বহিরাগত আক্রমণ প্রতিহত করতে জাতীয় সংহতি, সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি এবং মাতৃভূমি রক্ষায় অটল মানসিকতার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটানো। চলমান মার্কিন বন্দর অবরোধ ও আকাশপথে উত্তেজনার মধ্যে এই বিশাল স্বেচ্ছাসেবী জমায়েত আন্তর্জাতিক বিশ্বকে তেহরানের শক্ত অবস্থানের বার্তা দিল।



প্রতি বছর ১৯৮০ সালে ইরানের ওপর তৎকালীন ইরাকের আক্রমণ এবং পরবর্তী দীর্ঘ আট বছরের ইরান-ইরাক যুদ্ধের স্মৃতি ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এই 'পবিত্র প্রতিরক্ষা সপ্তাহ' পালন করে থাকে দেশটি।
যুদ্ধের সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও আত্মত্যাগের স্মৃতিকে সামনে রেখে বর্তমান সংকটময় সময়ে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা সুসংগঠিত, তা বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করতেই এবার 'জাঁনফাদায়ান' মহড়াকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সাজানো হয়।
