যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবরোধ এবং তীব্র জ্বালানি সংকটের মধ্যে থাকা কিউবায় নতুন করে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটেছে। শুক্রবার সংঘটিত এই ব্ল্যাকআউটের ফলে দেশজুড়ে চরম বিদ্যুৎহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা চলতি বছরে সপ্তম এবং ২০২৪ সালের শেষভাগ থেকে এ পর্যন্ত ১২তম বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনা। এতে ৯০ লাখেরও বেশি মানুষের এই দ্বীপরাষ্ট্রটিতে স্বাভাবিক জনজীবন পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় দেশটির রাজধানী হাভানার মাত্র ৫ শতাংশ বাসিন্দা বিদ্যুৎ সুবিধা পেয়েছেন। রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সংস্থা ইউএনই এবং দেশের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জরাজীর্ণ সঞ্চালন লাইনে ত্রুটি এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে পুরো জাতীয় গ্রিড বিচ্ছিন্ন হয়ে এই সার্বিক বিপর্যয় ঘটে।

বিদ্যুৎ ব্যবস্থার এই ধসের পেছনে পুরোনো ও জরাজীর্ণ তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পাশাপশি তীব্র জ্বালানি ঘাটতিকে দায়ী করা হচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ওয়াশিংটন হাভানার কমিউনিস্ট সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে কার্যত জ্বালানি অবরোধ আরোপ করার পর থেকে সংকট আরও তীব্র রূপ নেয়।
এর ফলে আমদানি করা ডিজেলে চালিত দেশের জরুরি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ব্যাকআপ জেনারেটরগুলো চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হাভানায় টানা ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ না থাকার ঘটনা ঘটেছে, আর রাজধানীর বাইরের প্রদেশগুলোতে বিদ্যুৎহীনতা ৬০ ঘণ্টা ছাড়িয়ে গেছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাবে পুরো দ্বীপে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যুৎ, রান্নার গ্যাস ও পানির এই যৌথ সংকট সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে অসহনীয় করে তুলেছে। কিউবান নাগরিকদের মতে, কোনো কোনো এলাকায় টানা ২৮ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ মিলছে না এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় মৌলিক সেবাগুলো বন্ধ থাকায় বাসিন্দারা সীমাহীন অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। কিউবা সরকার এই ভয়াবহ সংকটের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের শাস্তিমূলক পদক্ষেপ ও অবরোধকে দায়ী করলেও, ওয়াশিংটনের দাবি দ্বীপ দেশটির নিজস্ব অভ্যন্তরীণ অপব্যবস্থাপনার কারণেই এই দুরবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের পাশাপাশি ক্যারিবীয় এই দেশে গভীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘খ্রিস্টিয়ান সেন্টার ফর রিফ্লেকশন অ্যান্ড ডায়ালগ’ (সিসিআরডি)-এর একটি গবেষণায় দেখা গেছে, খাদ্যপণ্যের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কারণে বর্তমানে কিউবার ৬৬ শতাংশ মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছেন, যা ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে ছিল ৪৫ শতাংশ। সার্বিক জ্বালানি ও অর্থনৈতিক অচলবস্থার ফলে কিউবার সাধারণ জনগণের ভবিষ্যৎ জীবনযাত্রা চরম ঝুঁকিতে পড়েছে।
