দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বজ্রপাতে প্রাণহানি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতার অভাবের পাশাপাশি কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতিই বাড়াচ্ছে মৃত্যুঝুঁকি।
সবশেষ গেলো সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর দুইটার মধ্যে নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও নোয়াখালীতে বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছেন আটজন। এর মধ্যে তিনজন করে মারা গেছেন নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জে। একজন করে মৃত্যু হয়েছে হবিগঞ্জ ও নোয়াখালীতে।
এর আগে ১৫ এপ্রিল একদিনেই দেশের ছয় জেলায় বজ্রাঘাতে মারা যায় অন্তত ১৫ জন। আহত হন আরও অনেকে।
অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বলছে, বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে ৮৪ লাখ বজ্রপাত হয়।
আর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর বলছে, ২০১১ থেকে এ পর্যন্ত ১৫ বছরে বজ্রপাতে চার হাজার ৩৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেই হিসেবে প্রতিবছর গড়ে মৃত্যুবরণ করেন প্রায় ৩০০ মানুষ।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর- বিএমডির গবেষণা বলছে, বজ্রপাতে সর্বোচ্চ ২৯ দশমিক ৬২ শতাংশ ঘটনা হয় মে মাসে। জুনে ২৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং ২১ দশমিক ৪২ শতাংশ হয় আগস্টে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বজ্রপাত সম্পর্কে জনসচেতনতা জরুরি।
এদিকে দেশে বজ্রপাত নিরোধে প্রকল্প থাকলেও ফল নেই। লাইটনিং অ্যারেস্টার স্থাপনের পাশাপাশি হাওর অঞ্চলে বজ্রপাত আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের ওপর জোর দেন আবহাওয়াবিদরা।
এদিকে বজ্রপাতে প্রাণহানি রোধে সরকার একাধিক কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেন, কৃষক ও জেলেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার সচেতনতা বৃদ্ধি, সাইরেন স্থাপন, তালগাছ রোপণ এবং বজ্রনিরোধক টাওয়ার বসানোর মতো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্যের আনা বজ্রপাতজনিত প্রাণহানি রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, বিশেষত সুনামগঞ্জের হাওড় অঞ্চলে বজ্রপাতে মৃত্যুর হার বেশি। এই অঞ্চলের কৃষক ও মৎস্যজীবীরা গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে প্রচুর বজ্রপাতের শিকার হচ্ছেন।
স্কুল ফিডিংয়ে গাফিলতি: অবশেষে মামলা, তিন উপজেলায় টিফিন বিতরণ স্থগিত
অতিবৃষ্টিতে তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের স্বপ্নের সোনালী ধান
১৩ বছরের কিশোরীকে বিয়ে, বরের জেল-জরিমানা
হামে আরও ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ১২৭৬