দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করা তরুণ উদ্যোক্তা ও সংগঠনকে পঞ্চমবারের মতো ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড’ দিতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের গবেষণা উইং সেন্টার অর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ইয়ং বাংলা।
দেশে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু, হিজরা, দলিত ও অনগ্রসর সমাজকে নিয়ে কাজ করে এমন সংগঠনসহ ৩০টি সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানকে এ পুরস্কার দিতে ইতিমধ্যে অনলাইনে নিবন্ধন চলছে বলে সিআরআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশ গঠনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডে এবারই প্রথমবারের মতো দেওয়া হবে আজীবন সম্মাননা পুরষ্কার।
একমাস ধরে চলা নিবন্ধন রোববার (২৪ অক্টোবর) শেষ হচ্ছে বলে সিআরআইয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
সিআরআইয়ের বিজ্ঞপিতে বলা হয়েছে, দেশের প্রতি তরুণদের দায়বদ্ধতা ও দায়িত্ব পালনে নেওয়া উদ্যোগগুলোকে স্বাগত জানাতে পঞ্চমবারের মতো ফিরে এসেছে ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড।”
সম্প্রতি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সাম্প্রদায়িক হামলার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদ ছাড়াও মাঠপর্যায়ে রাস্তায় নেমে ধর্মীয় সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে বহু যুবক ও যুব সংগঠন।
এছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য তারা ভূমিকা রাখছে। জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডের পঞ্চম বছরের আয়োজনে এসব ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখা সংগঠনকেও পুরষ্কৃত করা হবে।
আ্যাওয়ার্ডে অংশ নিতে আগামী রোববারের মধ্যে যুব ও যুব সংগঠনগুলোকে আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে ইয়ং বাংলা। ইয়াং বাংলার ওয়েবসাইটে (http://jbya.youngbangla.org) এ পুরস্কারের জন্য আবেদনের করা যাবে। সেখানেই মিলবে বিস্তারিত তথ্য।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জমা পড়া আবেদনগুলো ২৪ অক্টোবরের পর বাছাই করা হবে। পরে বাছাই করা সংগঠনগুলোর কাজ ও সমাজে তার প্রভাব দেখার জন্য মাঠ পর্যায়ে পর্যবেক্ষণে যাবে ইয়াং বাংলা টিম। সেখান থেকে শীর্ষ ৩০ সংগঠনকে বেছে নেওয়া হবে।
সামাজিক অন্তর্ভূক্তি ও সম্প্রদায়ভিত্তিক উন্নয়নে দুইটি বৃহৎ ক্যাটগরিতে ১০টি পুরুষ্কার দেওয়া হবে।
সাংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের সংগঠন, যে সংগঠন নারীর ক্ষমতায়ন, শিশু অধিকার, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষমতায়ন, পিছিয়ে পড়া মানুষের ক্ষমতায়ন, যুব উন্নয়ন, অতি দরিদ্র মানুষের ক্ষমতায়নে ভূমিকা রেখেছে তারা ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডের’ জন্য আবেদন করতে পারবেন।
এছাড়া যেসব যুব সংগঠন তাদের কার্যক্রমের মধ্যে দিয়ে কোন সম্প্রদায়ের উন্নতির জন্য কাজ করছে। “ইন্টিগ্রেটেড কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট” এর অধীনে তারাও আবেদন করতে পারে।
এতে ছয়টি বিষয়ে আবেদনের সুযোগ রাখা হয়েছে, মাদক বিরোধী সচেতনতা অভিযান, পরিবেশ রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তন রোধে কার্যক্রম, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া, স্বাস্থ্যসেবা ও সচেতনতা, শিক্ষা, সামাজিক - সাংস্কৃতিক উদ্যোগ।
উন্নয়ন কর্মসূচি ও প্রকল্প, জননীতিতে গবেষণা ও উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা ও সৃজনশীলতা এই চার নীতিতে আজীবন সম্মাননা দেয়া হবে। এছাড়া নেতৃত্বগুন, সেবার মানসিকতা ও উদ্যোগ এবং গবেষণার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতাত্তোর দেশ গঠনে ভূমিকা রাখা ব্যক্তিদেরও আজীবন সম্মাননা দেওয়া হবে।
ভিশন ২০২১-কে লক্ষ্যে রেখে দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তরুণ প্রজন্মকে সরাসরি অন্তর্ভুক্ত করার উদ্দেশ্যে তাদের নতুন ধারণা ও উদ্ভাবনগুলোকে উত্থাপন করার জন্যই ২০১৪ সালের ১৫ নভেম্বর আত্মপ্রকাশ করে ইয়াং বাংলা। প্রায় ৫০ হাজারের বেশি সেচ্ছাসেবী এবং ৩১৫টির বেশি সংগঠনকে সাথে নিয়ে চলা এই সংগঠনটির বর্তমানে সদস্য সংখ্যা প্রায় তিন লাখ।
২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নিজ নিজ এলাকায় সফল হওয়া যুবক ও যুব সংগঠনগুলোকে পুরষ্কৃত করে আসছে ইয়ং বাংলা।’
২০১৮-র জয় বাংলা ইয়ূথ অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী সাদাত রহমান গত বছর পেয়েছিলেন ‘আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার’।
‘সাইবার বুলিং’ থেকে শিশুদের রক্ষায় কাজ করা সাদাতকে ‘আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার’ শান্তিতে নোবেল বিজয়ী মালালা ইউসুফজাই।
জয় বাংলা ইয়ূথ অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার অনুভূতিতে প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘জয় বাংলা ইয়ুথ আ্যাওয়ার্ড আমাকে বহু পরিবর্তনশীল চিন্তার তরুণদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক যেসব ক্লাব কমিউনিটি সার্ভিস, ক্যাম্পেইন এবং কার্যক্রমের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে তরুণ সমাজের জন্য কাজ করছে তাদেরকে ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়।
একাত্তর/এসি
