জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচ বৃদ্ধি আর ডলারের বাজারে অস্থিরতার অজুহাতে বেড়েছে আপেলসহ সব রকম বিদেশি ফলের দাম।
আমদানিকারকরা বলছেন, বিলাসী পণ্য হিসেবে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আর এলসি খোলায় বিপত্তির কারণে কমেছে ফলের আমদানি। যার প্রভাব পড়েছে বাজারে।
দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি ফলের বাজার বাদামতলী। ১৯ কেজির এক কাটুর্ন আমদানি করা ফুজি চায়না আপেল এই বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩,৬০০ টাকা দরে।
সেই আপেল পাইকাররা খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছেন ৩,৯০০ থেকে ৪, ১০০ টাকায়। আর, ক্রেতাদের কিনতে হচ্ছে তার চেয়েও বেশি দামে।
কেবল আপেল নয়। আমদানি করা কমলা, মাল্টা, আঙুর আর নাশপাতির বাজারও বেশ চড়া। পাইকার থেকে খুচরা পর্যন্ত প্রতি হাত বদলেই বেড়ে যাচ্ছে এসব ফলের দাম।
বাজারে এক কেজি আপেল এখন বিভিন্ন মানভেদে ২৬০ টাকা থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সুপারশপ বা বিশেষায়িত দোকানগুলোতে দাম আরও বেশি।
গ্রিন আপেল কেজি প্রতি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা। যা তেলের দাম বাড়ার আগে ছিল ২৪০ থেকে ২৮০ টাকা। ফুজি আপেল কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা, যা আগে ছিল ১৮০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে।
মাল্টার কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২১০ টাকা, যা আগে ছিল ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা। কমলা বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি, যা আগে ছিল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা।
২০২১ সালে আমদানির হিসাব অনুযায়ী দেশে প্রতিদিন বিদেশি ফলের চাহিদা গড়ে ১৬ লাখ ৮৮ হাজার কেজি। চলতি বছরে এই চাহিদা আরও বাড়বে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে চাহিদার তুলনায় এখন সরবরাহ সংকট আছে। আর এতেই বাড়ছে দাম। সেই সঙ্গে ডলারের পাগলা ঘোড়া তো আছেই।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিদেশি ফলকে বিলাসপণ্য বিবেচনা করে নতুন শুল্ক আরোপ এবং ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণেও ফলের দাম ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
ফল ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে পরিবহন খরচ অনেক বেড়েছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই ফলের দাম বেড়ে যাচ্ছে।
তারা জানান, ফলের জন্য ক্রেতাদের চাহিদা রয়েছে, কিন্তু টাকা নেই। সরকার যদি শুল্ক কমায় তাহলে হয়তো দাম কমতে পারে।
একাত্তর/এআর
