সিলেট-১ নির্বাচনী এলাকার কম আয়ের মানুষের অভিযোগ, উন্নয়ন যেটা দেখা যায় তাতে গরীব মানুষের কোন উপকার হয়নি। হয়নি নতুন কর্মসংস্থান। আর মধ্যবিত্ত ভোটাররা বলছেন, প্রবাসী অধ্যুষিত এই আসনে তারা বিনিয়োগের নিশ্চয়তা চান।
দেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ একটি মর্যাদাপূর্ণ আসন হিসেবে পরিচিত। আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, আগামী সংসদ নির্বাচনে তাদের প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত। তবে বিএনপি নেতারা নিশ্চিত করে কোন প্রার্থীর কথা বলতে চাননি।
সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে যে দলের প্রার্থী জয়লাভ করে সে দলই প্রতিবার সরকার গঠন করে। বহুল প্রচলিত এ কথা কতটা সত্যি, সেটি নির্বাচনের পরিসংখ্যানের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। ১৯৯১ সাল থেকে শুরু করে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে এটি প্রমাণিত হয়েছে।
অতীতে এ আসন থেকে যে দলের প্রার্থী জয়লাভ করেছে তারা সরকারের ভেতরও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিয়েছে। তারপরেও এই আসনে উন্নয়ন আছে, উন্নয়ন বঞ্চনাও আছে। দরিদ্র মানুষের অভিযোগ, পাঁচ বছরে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়নি প্রবাসী বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টির দাবি তুলেছেন মধ্যম আয়ের লোকজন।
দেশ স্বাধীন হবার পর থেকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সিলেট-১ আসন নিয়ে এক ধরনের ‘মিথ’ প্রচলিত আছে। সিলেট-১ আসনে যে দল বিজয়ী হয় সেই দলই সরকার গঠন করে বলে বিশ্বাস অনেকের। যদিও এই মিথের সত্যতাও মিলেছে বেশ কয়েকবার।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ড, সিলেট সদর ও কোম্পানীগঞ্জের একাংশ নিয়ে সিলেটের ১ আসনটি। সিটি কর্পোরেশন পুরোটা এ আসনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এই আসনের অধিকাংশ ভোটারই নগরের ছোঁয়া পেয়েছে।
সিলেট-১ আসনের ভোটারদের সাধারণত দুটো ভাগে ভাগ করা যায়। একটি অংশ হচ্ছে, অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল এবং অপর অংশটি হলো নিম্নবিত্ত। ফলে মাঠ পর্যায়ে উভয় শ্রেণির ভোটারদের চিন্তাধারা ও ভিন্ন।
যারা অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল তাদের কাছে দেশ কিভাবে চলছে, মানবাধিকার পরিস্থিতি কেমন কিংবা আইনের শাসন আছে কিনা সেটা গুরুত্বপূর্ণ। অপর দিক নিন্মবিত্ত ভোটাররা এলাকার রাস্তাঘাট, দ্রব্যমূল্য এবং অন্যান্য অবকাঠামোর উন্নয়ন হচ্ছে কিনা তা নিয়ে ভাবেন।
এর পাশাপাশি ঢাকা-সিলেট ৬ লেনের মহাসড়ক, আধুনিক বাস টার্মিনাল,সিটি কর্পোরেশনের রাস্তা প্রশস্ত করাসহ যে ক’টি কাজ হয়েছে তার সুফল পাচ্ছেন এলাকার মানুষ।তবে এলাকার উন্নয়ন হলেও সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ এখনো বাড়েনি এ আসনে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে রয়েছে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া।
এ দিকে ভোটের সমীকরণে এখন পর্যন্ত এ আসনে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। আসছে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনেও দল তার ওপর আস্থা রাখবে এমনটাই আশা এ আসনের জনপ্রতিনিধির।
আরও পড়ুন: সব দলেই রয়েছে একাধিক প্রার্থী, আছে কোন্দলও
তবে এবার এই আসনের দিকে নজর আছে বিএনপিসহ অন্য দলের নেতাদেরও। অন্য কোন প্রার্থীর নাম এখনও শোনা যায়নি। তবে এলাকা বা আসনের উন্নয়ন যাই হোক না কেনো সবার মাঝে ঘুরে ফিরে একটি প্রশ্ন, আসছে সংসদ নির্বাচন কোন সহিংসতা ছাড়া সুষ্ঠু হবে কিনা।
একাত্তর/আরএ
