দীর্ঘ বছর পর নানাবাড়ি দিনাজপুরে পা রেখে এক আবেগঘন পরিবেশে নির্বাচনী জনসভা করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে দিনাজপুরের বিরামপুরে আয়োজিত এই জনসভায় তিনি নিজেকে এই মাটির সন্তান হিসেবে পরিচয় দিয়ে ধানের শীষের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন।
আবেগ ও সম্পর্কের টান জনসভার শুরুতে কিছুটা রসিকতা করে তারেক রহমান বলেন, বহু বছর পর নানাবাড়ি এসেছি। দিনাজপুরের মানুষের প্রথম ফসল ধান, আর ধানের শীষ আমাদের প্রতীক। আমি আপনাদের কাছে ধানের শীষে ভোট চাইছি।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এই এলাকার সন্তান বেগম খালেদা জিয়াই এ দেশের মা-বোনদের শিক্ষা অবৈতনিক করে দিয়েছিলেন। কৃষি ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা দিনাজপুরকে কৃষিপ্রধান অঞ্চল হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান তার ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনাও তুলে ধরেন।
লিচু ও চাল রপ্তানি: দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী লিচু এবং সুগন্ধি কাটারিভোগ চাল বিশ্বের বাজারে রপ্তানি করার জন্য সব ধরনের আধুনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বিএনপি সরকার।
কৃষিভিত্তিক শিল্প: এই অঞ্চলে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন শিল্পকারখানা গড়ে তোলা হবে যাতে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান তৈরি হয়।
তরুণ ও নারী উন্নয়ন: তরুণদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা এবং মা-বোনদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান।
জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে গত ১৬ বছরে নেতাকর্মীদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি আমাদের অধিকার ফিরে পাওয়ার নতুন সুযোগ এসেছে। তবে একটি গোষ্ঠী জনগণের এই অধিকার প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তাদের ব্যাপারে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র হলেও তিনি যেমন দেশ ছেড়ে যাননি, নেতা-কর্মীদেরও তেমনি অটল থেকে লক্ষ্য অর্জন করতে হবে।

নীলফামারীর মতো দিনাজপুরের জনসভাতেও তিনি ধর্মীয় ইমাম ও ধর্মগুরুদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জিন, খতিব এবং অন্য ধর্মের ধর্মগুরুরা আমাদের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সেবা দিয়ে যান। অথচ অনেকে মানবেতর জীবনযাপন করেন। বিএনপি সরকার গঠন করলে রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের জন্য সম্মানীর ব্যবস্থা করা হবে।
জনসভায় তারেক রহমান দিনাজপুরের বিভিন্ন আসনের ধানের শীষের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, আমরা রাজনৈতিক দল হিসেবে আপনাদের সামনে পরিকল্পনা দিয়েছি। এখন ধানের শীষকে বিজয়ী করে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ করে দিন।
শ্রমিকের সন্তানও দেশের প্রধানমন্ত্রী হবে: জামায়াত আমির