একদিন স্বর্গে একসাথে ফুটবল খেলবো। ম্যারাডোনার মৃত্যুর পর মন্তব্য করেছিলেন পেলে আজ নিজেই চলে গেলেন। সর্বকালের সেরা ফুটবলার কে? ম্যারাডোনা নাকি পেলে? ভক্তদের মাঝে তাদের নিয়ে তর্ক-বিতর্ক এখনো চলে।
কিন্তু এই দুই কিংবদন্তীর মাঝে শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে ছিল না কোনো লড়াই। লাতিন আমেরিকার দুই মহা নায়ক নিজেদের আলাদা করেছিলেন অনন্য গুনে, মহিমায়, শ্রেষ্ঠত্বে, আভিজাত্যে।
যেতে নাহি দিবো হায়, তবুও তো যেতে দিতে হয়, তবুও চলে যায়, এই সত্যের কাছে হার মেনেই চির বিদায় নিয়েছেন ফুটবল কিংবদন্তী পেলে।
ছবিগুলো আবেগে ভাসায়, ভালোবাসার জন্ম দেয়। মুগ্ধ করে প্রতিটি ক্ষণ, মুহূর্ত। শিল্পীর তুলির আঁচড়ে ক্যানভাসে আঁকা সেই চরিত্রটি শেষ যাত্রায়।
পৃথিবীর পুরনো পথের রেখা হয়ে যায় ক্ষয়, প্রেম ধীরে মুছে যায়, নক্ষত্রেরও একদিন মরে যেতে হয়। ফুটবল আকাশের নক্ষত্র ঝরে পড়েছে, পেলের পায়ের চিহ্ন আর কখনোই পড়বে না মাঠে।

এই তো সেদিন ম্যারাডোনার মৃত্যুর পরে পেলে বলেছিলেন ‘একদিন আমরা নিশ্চয়ই একসাথে ফুটবল খেলবো, ঐ দূর আকাশে’। ৭৬৪ দিন পরে ফুটবলের কালো মানিকও পৃথিবী ছাড়লেন।
ফুটবলের সবচেয়ে বড় নক্ষত্রকে নিজেদের মধ্যে পেয়ে দূর আকাশে হয়তো আনন্দের বন্যা বইছে, হয়তো তাকে স্বাগত জানাতে ফুটবল হাতে মাঠে নেমে গেছেন ম্যারাডোনা, কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠে পৃথিভীর ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের কালো ছায়া।
সর্বকালের সেরা ফুটবলার কে? ম্যারাডোনা নাকি পেলের ? ভক্তদের মাঝে তাদের নিয়ে আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক এখনো চলে।
ঊনবিংশ শতাব্দীর ফুটবল মানেই পেলে আর ম্যারাডোনা। তাদের আগে-পারে অনেকেই বিশ্বকে তাক লাগিয়েছেন, ভক্তদের হৃদয় জয় করে নিয়েছেন। কিন্তু লাতিন আমেরিকার এই দুই মহা নায়ক নিজেদের আলাদা করেছেন অনন্য গুণে, মহিমায়, শ্রেষ্ঠত্বে, আভিজাত্যে।
প্রায় সময় ম্যারাডোনা নিজেকে সর্বকালের সেরা বললেও, একাধিকবার এটাও বলেছেন পেলে সর্বকালের সেরা। তার ভাষায়,ম্যারাডোনা হচ্ছে ম্যারাডোনা, আর পেলে ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ।

ম্যারাডোনা আরও বলেছিলেন, আমি একজন সাধারণ খেলোয়াড়। আমি পেলেকে অনুকরণ করার চেষ্টা করি না, সবাই জানে তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ।
ম্যারাডোনার চিরকালের আক্ষেপ ছিল, পেলের থেকে একটি পাস না পাওয়ার! একই জার্সিতে না খেলার!
এক টিভি শোতে সেই আক্ষেপের কথা বলে ম্যারাডোনা পেলের হাতে বল তুলে দিয়েছিলেন। সেই বল নিয়ে দুজনের হেডে হেডে ঠোকাঠুকির চিত্র হার মানায় মোনালিসার চিত্রকর্মকেও!
আরও পড়ুন: সান্তোসের মাঠে পেলের শেষকৃত্য হবে দু’দিনব্যাপী
দুজনের চার হাত এক করে একে অপরের আলিঙ্গনের দৃশ বলে দেয়, ফুটবল শুধুমাত্র কোনও খেলা নয়, এটা জীবনও।
পেলের মতো কিংবদন্তিদের শুধু দৈহিক মৃত্যু হয় কিন্তু পেলে বেঁচে থাকবেন তাঁর ফুটবলীয় রেকর্ডে, পেলে বেঁচে থাকবেন নেইমার-ভিনিসিয়াসদের মাঝে।
পেলে বেঁচে থাকবেন দর্শক-সমর্থকদের হৃদয়ে। পেলে বেঁচে থাকবেন ফুটবল পায়ে দৌড়ানো ছোট্ট শিশুর স্বপ্নে, হাজারো কিশোরের বিশ্বাসে।
একাত্তর/এসি
