টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অনড় অবস্থানের কারণে সৃষ্ট অচলাবস্থার মধ্যে সাবেক ক্রিকেটাররা তাদের হতাশা জানিয়েছেন। আইসিসির সঙ্গে আলোচনা বা বিসিবির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, কোনো বিষয়েই ক্রিকেটের না রাখায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তারা। বাংলাদেশের সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার সৈয়দ আশরাফুল হক বলেছেন, সরকারের অনড় অবস্থানে বড় ক্ষতিতে পড়বেন ক্রিকেটাররা। তিনি বলেছেন, একটি রাজনৈতিক লড়াইয়ে জিতেছি, কিন্তু ক্রিকেটের যুদ্ধে আমরা হেরে গেছি।
বিসিবি দাবি করছে, তারা সরকারের নিরাপত্তা নির্দেশিকা অনুসরণ করছে, তবে বিসিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সাবেক প্রধান নির্বাহী সৈয়দ আশরাফুল হক মনে করেন, এই সিদ্ধান্ত খেলোয়াড়দের ওপর ছেড়ে দেয়া উচিত ছিল।
ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক হিন্দুস্তান টাইমসের ক্রিকেট বিষয় পোর্টাল ক্রিকবাজের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত সাধারণত ক্রিকেট বোর্ড নেয়, সরকার নয়।
আশরাফুল হক বলেন, বিদেশে সফরের জন্য সরকার অনুমতি দেয়, এটি সত্য। কিন্তু যখন নিরাপত্তার প্রশ্ন ওঠে, তখন বোর্ড সাধারণত খেলোয়াড়দের সামনে সব আয়োজন ও পরিকল্পনার চিত্র তুলে ধরে এবং সিদ্ধান্ত নেয়ার ভার তাদের ওপর ছেড়ে দেয়। যারা যেতে চায় তারা যাবে, যারা চায় না তারা যাবে না- এবং এর জন্য কোনো শাস্তি দেয়া হয় না। এটাই প্রচলিত নিয়ম।
তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বাংলাদেশকে ক্রিকেট বিশ্বে একঘরে করে ফেলতে পারে এবং খেলোয়াড়দের স্বপ্ন ধূলিসাৎ করতে পারে।
তিনি আরও যোগ করেন, এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে বর্তমান বোর্ড পুরোপুরি সরকারের সিদ্ধান্তের আজ্ঞাবহ হয়ে আছে। এর ফলে যে ক্ষতি হবে, তার প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী; ক্রিকেট মহলে বাংলাদেশকে ‘সমস্যা সৃষ্টিকারী’ দেশ হিসেবে দেখা হতে পারে। যে কোনো আত্মমর্যাদাসম্পন্ন বোর্ড আইসিসির নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলো খেলোয়াড়দের জানাতো এবং তাদের ওপর সিদ্ধান্ত ছেড়ে দিত। অথচ এখন খেলোয়াড়দের একটি আজীবন লালিত স্বপ্ন (বিশ্বকাপ খেলা) থেকে বঞ্চিত করা হলো।
সৈয়দ আশরাফুল হক নিশ্চিত করেছেন , আইসিসির কোনো টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করলে শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে। তার ভাষায়, আমরা একটি চুক্তিতে সই করেছি এবং নিরাপত্তার বিষয়টি দেখভাল করছে আইসিসি। আমরা যদি সরে দাঁড়াই, তবে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে। আমরা হয়তো একটি রাজনৈতিক লড়াইয়ে জিতেছি, কিন্তু ক্রিকেটের যুদ্ধে আমরা হেরে গেছি।
তিনি আরও সতর্ক করেছেন যে, বাংলাদেশের নাম প্রত্যাহারের কারণে দর্শক সংখ্যা কমে গেলে আইসিসি ক্ষতিপূরণও দাবি করতে পারে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, সম্প্রচার স্বত্বের দরপত্র যখন আহ্বান করা হয়, তখন নির্দিষ্ট অঞ্চলের দর্শক সংখ্যার কথা মাথায় রাখা হয়। বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের দর্শকদের বাজার অনেক বড় এবং সেই বাজার হারানো মানেই বিশাল আর্থিক ক্ষতি।
বাংলাদেশের পরিবর্তে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলবে স্কটল্যান্ড