এবারের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ব্রাজিলকে দেখে মনেই হচ্ছিলেঅ না এই দল পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান দল। শেষ চার ম্যাচের মধ্যে একটি ড্রয়ের পর টানা তিন ম্যাচে হার ছিলো সঙ্গী। জিততে যেন ভুলেই গিয়েছিলো কোটি কোটি ভক্তের এই দল।
অবশেষে দক্ষিণ আমেরিকান বাছাইয়ে ইকুয়েডরকে ১-০ গোলে হারিয়ে জয়ের ধারায় ফিরেছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দল।
কুতো পেরেইরা স্টেডিয়ামে ৩০ মিনিটে একমাত্র গোলটি করেছেন রদ্রিগো। বেশ কয়েকবার পাস করার পর রদ্রিগো বলটা পেয়ে যান বক্সের বাইরে। তখন শট নিলে বল ইকুয়েডরের এক ডিফেন্ডারের গায়ে লাগলে তার দিক পরিবর্তিত হয়ে জড়ায় জালে।
জয়ের ধারায় ফিরে পয়েন্ট টেবিলে দুই ধাপ এগিয়েছে ব্রাজিল। ছয় নম্বর থেকে এখন অবস্থান করছে চার নম্বরে। সাত ম্যাচে তাদের অর্জন ১০ পয়েন্ট। দরিভাল জুনিয়রের অধীনে নিজেদের এখনও সেভাবে মেলে ধরতে পারেনি ব্রাজিল। কোপা আমেরিকাতে হয়েছে ব্যর্থ। ছন্নছাড়া নৈপুণ্যে কোয়ার্টার ফাইনালেই বিদায় নিতে হয়েছে। আরো জয়ের আশায় থাকা সেলেসাও দল ১১ সেপ্টেম্বর পরের ম্যাচে মুখোমুখি হবে প্যারাগুয়ের।
বাংলাদেশ সময় শনিবার সকালে শুরু হওয়া ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে প্রথম সুযোগ আসে ব্রাজিলের। রদ্রিগোর ফ্রি কিকে বক্সের ভেতর থেকে হেড নিয়েছিলেন গ্যাব্রিয়েল মাগালিয়েস। কিন্তু ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডারের হেড বারপোস্টের অনেক ওপর দিয়ে যায়।
১২ মিনিটে ইকুয়েডর গোলকিপার ও ডিফেন্ডারের ভুলের সুযোগে প্রায় গোল পেয়ে গিয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস। তোরেসের ব্যাকপাস দিয়েছিলেন গোলকিপার গালিনদেসকে। ভিনিসিয়ুসকে এগিয়ে আসতে দেখে শট নিয়েছিলেন ইকুয়েডর গোলকিপার। সেটি ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকারের গায়ে লেগে অল্পের জন্য জালে জড়ায়নি।
২২তম মিনিটে তোরেসের ভুল পাস বক্সের বাইরে বিপজ্জনক জায়গায় পেয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস। কিন্তু সহজ সুযোগ পেয়েও সেটি নষ্ট করেন ব্রাজিল স্ট্রাইকার। এর আট মিনিট পর ব্রাজিল সমর্থকদের অপেক্ষার অবসান ঘটান রদ্রিগো। লুকাস পাকেতার পাস বক্সের বাইরে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দারুণ এক শটে ইকুয়েডরের জালে বল জড়ান ব্রাজিলিয়ান নাম্বার টেন।
এর পাচ মিনিট পরে ব্যবধান প্রায় দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস। বক্সের বাইরে থেকে ভিনির নেওয়া চিপ শট ইকুয়েডর গোলকিপারকে পরাস্তও করেছিলেন। কিন্তু তা দূরের পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে প্রায় সমতা ফিরিয়েছিলো ইকুয়েডর। দলটির স্ট্রাইকার মোয়েসিস সেইসেদো অনেকটা ফাঁকায় বল পেয়েছিলেন। তবে চেলসি স্ট্রাইকারের শট প্রথম দফায় ফিরিয়ে দেন ব্রাজিল গোলকিপার আলিসন। ফিরতি বলে আবার শট নিয়েছিলেন সেইসেদো। এবার গোললাইন থেকে বল ক্লিয়ার করে ব্রাজিলের জাল অক্ষত রাখেন গ্যাব্রিয়েল।
দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে খেলতে থাকে ইকুয়েডর। ৪৯ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া রদ্রিগোর ফ্রিকিক অনেক ওপর দিয়ে যায়। ম্যাচের ৭৩ মিনিটে আক্রমণাত্মকভাবে ইকুয়েডরের বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন ভিনিসিয়ুস। কিন্তু গোল আর পেলেন কোথায়। এগিয়ে আসা প্রতিপক্ষ গোলকিপারকে পরাস্ত করতে পারলেও ইকুয়েডর ডিফেন্ডারের কড়া পাহাড়ায় শেষ মুহূর্তে সাইডনেটে শট নেন ভিনিসিয়ুস।
৮০ মিনিটে প্রতিআক্রমণে ওঠে ইকুয়েডর। তবে দলটির দলীয় আক্রমণ ব্যর্থ হয় স্ট্রাইকার জন মারকাদোর লক্ষ্যভ্রষ্ট শটে। পাঁচ মিনিট পরে পায়েস কার্লসের মাপা ফ্রি কিক ব্রাজিল বক্সে পড়েছিলেঅ। কিন্তু সে ক্রসে পা লাগাতে পারেননি সেইসেদো। যোগ করা সময়ের সময়ের একদম শেষ মুহূর্তেও ম্যাচে ফেরার সুযোগ পেয়েছিল ইকুয়েডর। কিন্তু বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া ফ্রিকিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয় দলটি।
বিবিসি বাংলার সাবেক সাংবাদিক কাদের মাহমুদের জীবনাবসান 