ইউক্রেন যুদ্ধে পরমাণু অস্ত্রবহনে সক্ষম হাইপারসনিক মিসাইল ব্যবহার করেছে রাশিয়া। ধ্বংস করা হয়েছে ইউক্রেনের ভূগর্ভস্থ একটি অস্ত্রাগার এবং একটি সামরিক রেডিও স্টেশন।
কিনঝাল নামের হাইপারসনিক মিসাইলটি শব্দের চেয়ে দশগুণ দ্রুত, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
ইউক্রেনে হামলা আরো জোরদার করেছে রাশিয়া। শনিবার ব্যবহার করা হয়েছে অপ্রতিরোধ্য হাইপারসনিক মিসাইল।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রথমবারের মতো এ অস্ত্র ব্যবহারের কথা স্বীকার করেছে। ইউক্রেনের ইভানো-ফ্রানকিভিসে ধ্বংস করা হয়েছে মাটির নিচের একটি অস্ত্রাগার। ওডেসায় উড়িয়ে দেয়া হয়েছে ইউক্রেনীয় বাহিনীর রেডিও স্টেশন।

রুশ ভাষায় এ হাইপারসনিক মিসাইলের নাম রাখা হয়েছে কিনঝাল। যার অর্থ ছুরি। আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য হাইপারসনিক মিসাইলটি পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম।
যার গতি শব্দের চেয়ে দশগুণ বেশি। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে আঘাত হানতে পারে লক্ষ্যবস্তুতে। পাড়ি দিতে পারে পনেরোশ’ থেকে দু’হাজার কিলোমিটার।
এই মিসাইলটি বহনে সক্ষম ৪৮০ কেজি পরমাণু অস্ত্র। কিনঝালের দৈর্ঘ্য আট মিটার। ব্যাস এক মিটার। ওজন ৪ হাজার তিনশো কেজি।
ইউক্রেন যুদ্ধে, নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম, উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন এ অস্ত্র ব্যবহার করেছে মস্কো।
২০১৮ সালে রুশ প্রেসিডেন্টের রাষ্ট্রীয় ভাষণ অনুষ্ঠানে প্রদর্শন করা নতুন অস্ত্রগুলোর একটি ছিল কিনঝাল। যাকে আদর্শ অস্ত্র আখ্যা দিয়েছিলেন পুতিন।
নিক্ষেপের পর কিনঝালের গতি উঠে ঘণ্টায় চার হাজার নয়শ’ কিলোমিটার। এ গতি ঘণ্টায় ১২ হাজার ৩৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।
আরও পড়ুন: জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে রাজি নন পুতিন
হাইপারসনিক মিসাইল শব্দের চেয়ে পাঁচ থেকে নয়গুণ দ্রুত ছুটতে পারে। বর্তমানে ব্যবহৃত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে তাকে আটকানো সম্ভব নয়। এ প্রযুক্তি কারো কাছেই নেই।
যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়ার কাছে সর্বোচ্চ গতির এ মিসাইল সিস্টেম রয়েছে। ভারত, জাপান, ফ্রান্স, জার্মানি, উত্তর কোরিয়াসহ কয়েকটি রাষ্ট্র এই প্রযুক্তি উন্নয়নে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে।
একাত্তর/আরএ
