ইউক্রেনের বন্দরনগরী মাউরিপোলের সবচেয়ে বিশাল শিল্প প্রতিষ্ঠান আজভস্তালের দখল দিতে ভেতরে ঢুকে পড়েছে রাশিয়ার সেনাবাহিনী।
সোমবার (৯ মে) মস্কোর রেড স্কয়ারে যখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসিদের বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয় বার্ষিকীর সামরিক কুচকাওয়াজ চলছিলো, তখনই আজভস্তালে প্রবেশ করে রাশিয়া।
আজভস্তাল কারখানাতেই আশ্রয় নিয়েছে ইউক্রেনের হয়ে প্রতিরোধ যুদ্ধে সামিল হওয়া আজভ বাহিনীর কয়েক শত যোদ্ধা। যদিও তারা বলেছেন, বেঁচে থাকতে আত্মসমর্পন করবে না।
শুধু মারিউপোলই নয়, ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরেও মিসাইল হামলা চালিয়ে বিজয় দিবসের বার্তা পাঠিয়েছে। এসব হামলায় বিস্তারিত এখনো আসেনি।
তবে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পূর্বাঞ্চলে তীব্র যুদ্ধ অব্যাহত আছে। অন্যদিকে, চার নিখুঁক নিশানার ওনেক্স মিসাইল রুশ অধিকৃত ক্রিমিয়া থেকে ওডেসা অভিমুখে ছোঁড়া হয়েছে।

ইউক্রেনেন দক্ষিণাঞ্চলের ওডেসা শহরে গেলো কয়েকদিন ধরেই আক্রমণ তীব্র করেছে রাশিয়া। আর মাইলোলেভের মেয়র জানিয়েছেন, রোববার রাত থেকেই তীব্র হামলা চলছে।
ইউক্রেনের অবরুদ্ধ বন্দরনগরী মারিউপোলের আজভস্তাল ইস্পাত কারখানার যোদ্ধারা রুশ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ না করার ঘোষণা দিয়েছে।
গেলো কয়েক সপ্তাহ ধরেই বন্দরনগরী মারিউপোলের আজভস্তাল ইস্পাত কারখানা ঘিরে রেখেছে রুশ বাহিনী।
মারিউপোলে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার পথে বাধা হয়ে আছে এই একটি কারখানায় থাকা মুষ্টিমেয় কিছু ইউক্রেইনীয় যোদ্ধা। এখনও নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে অটল যোদ্ধারা।
এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে ইউক্রেইনের আজভ রেজিমেন্টের উপ-কমান্ডার বলেছেন, তাদের দেহে যতক্ষণ প্রাণ আছে, লড়াই চলবে।
এদিকে পূর্ব ইউক্রেনের লুহানস্ক অঞ্চলের দখল নিয়ে রুশ বাহিনীর সাথে তীব্র লড়াই চলছে ইউক্রেন সেনাবাহিনীর।

এর মাঝেই রাশিয়ার দখল করা মারিউপোল শহর সফর করেছেন রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী মারাত খুসনুলিন। শহরটিতে এটাই শীর্ষ পর্যায়ের কোনও রুশ কর্মকর্তার প্রথম সফর।
এক টেলিগ্রাম বার্তায় খুসনুলিন জানান, অঞ্চলটিতে শান্তিপূর্ণ জীবনে ফেরা শুরু হয়েছে। সেখানে মানবিক সহযোগিতা দেয়া হবে।
এদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, তার দেশে অশুভ শক্তি ফিরে এসেছে। দেশটির বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে দেয়া এক ভাষণে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

একাত্তর/এআর
