শেষ পর্যন্ত শেষ রক্ষা হলো না ভারতের লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্রের। এথিক্স কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে লোকসভার সদস্যপদ হারিয়েছেন তিনি। ঘুষ নেওয়ার বিনিময়ে সংসদে প্রশ্ন করার অভিযোগে শুক্রবার তাকে বহিষ্কার করা হয়। খারিজ করা হয়েছে তার সংসদ সদস্যপদ।
ঘুষ নেওয়ার বিনিময়ে সংসদে প্রশ্ন করার অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিলো, সংসদে নরেন্দ্র মোদি সরকারের সমালোচনা করার জন্য, আক্রমণ করার জন্য ব্যবসায়ী দর্শন হিরানন্দানির কাছ থেকে নগদ ২ কোটি টাকা নিয়েছেন মহুয়া। এর পাশাপাশি বিবিধ বিলাস সামগ্রীও উপহার হিসেবে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এনিয়েই শুনানি করে এথিক্স কমিটি।
শুধু তাই নয়, সংসদের ওয়েবসাইটে একটি গোপন অ্যাকাউন্টে লগ-ইন বিষয়ক তথ্য ও তিনি বাইরের ব্যক্তির সঙ্গে শেয়ার করেছেন বলে অভিযোগ, যাতে হিরানন্দানি সরাসরি প্রশ্ন পোস্ট করতে পারেন। বরাবরই মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন মহুয়া।

তৃণমূল কংগ্রেসের এই মুখ বিজেপি বিরোধী তীব্র স্বর হিসেবে নিজেকে স্থাপন করেছিলেন দাপটেই। বহিষ্কারের ঘটনার আগে মহুয়া মৈত্র নিজেই জানিয়েছিলেন লগ-ইন তথ্য তিনি শেয়ার করেছিলেন ঠিকই, কিন্তু ঘুষের অভিযোগ সর্বৈব মিথ্যা। সংসদ সদস্যপদ হারানোর পর এক তীব্র প্রতিক্রিয়াকে মহুয়া মৈত বলেছেন, তিনি এর শেষ দেখে ছাড়বেন।
এথিক্স কমিটি প্রায় ৫০০ পাতার এক রিপোর্ট পেশ করে। এই প্রতিবেদন ঘিরে ক্ষমতাসীন বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসসহ বিরোধীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করে। প্রতিবেদনটি উপস্থাপিত হওয়ার পরে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয় সেটি নিয়ে। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা মহুয়াকে কথা বলার অনুমতি দিতে চাননি।
বিরোধী সংসদ সদস্যরা কমিটির এই ফলাফল খতিয়ে দেখার জন্য আরও সময় দাবি করেন। সংসদে মহুয়া মৈত্রকে বলতে দেয়ার দাবিও ওঠে। তবে দাবি টেকেনি। এথিক্স কমিটির প্রতিবেদনকে শিরোধার্য করেই, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই বহিষ্কার করা হয় মহুয়া মৈত্রকে।

মহুয়া মৈত্রর বিরুদ্ধে এথিক্স কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, অবৈধ উপহার গ্রহণের অভিযোগগুলো স্পষ্ট প্রমাণ হয়েছে, যা অস্বীকার কোন উপায় নেই এবং সেই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে উপহার নেয়া, যার সঙ্গে তিনি লগইন ডিটেইলস শেয়ার করেছেন, তা একজন সংসদ সদস্যের অসামাজিক এবং অনৈতিক আচরণ।
বহিষ্কারের পর মহুয়া মৈত্র বলেন, এথিক্স কমিটি প্রমাণ ছাড়াই কাজটা করেছে। যদি এই মোদি সরকার মনে করে যে, আমাকে বহিষ্কার করে তারা আদানি ইস্যুটি থামিয়ে দিতে পারে তবে বলি যে তাড়াহুড়ো এবং যথাযথ প্রক্রিয়ার অপব্যবহার করেছেন তা প্রমাণ করে যে, আদানি আপনার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
মহুয়ার বিরুদ্ধে ঘুষের বিনিময়ে সংসদে প্রশ্ন করার অভিযোগ তুলেছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সাংসদ নিশিকান্ত দুবে। সংসদীয় ভাষায় একে বলা হয়, ক্যাশ-ফর-কোয়ারি (অর্থের বিনিময়ে প্রশ্ন)। একজন সদস্য রাজনৈতিক আনুগত্য পরিবর্তন করা, সংসদের আচরণ পরিপন্থি আচরণ, অর্থ বা ঘুষ নিয়ে প্রশ্ন করা, দুই বছরের বেশি কারাদণ্ড অথবা অন্য কোনও অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সদস্যপদ হারাতে পারেন।

পশ্চিমবঙ্গের কৃষ্ণনগরের তৃণমূল কংগ্রেস এমপি মহুয়া মৈত্রর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার পর এথিকস কমিটি তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ৪৯৫ পাতার রিপোর্ট দেয়। এর ৫২ নম্বর পাতায় মহুয়াকে সংসদ থেকে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়।
এতে বলা হয়, মহুয়া গুরুতর অপরাধ করেছেন, তাকে লোকসভা থেকে বহিষ্কার করা উচিত৷ তার বিরুদ্ধে আইনি তদন্ত হওয়া উচিত। অর্থের যে লেনদেন হয়েছে, তা খুঁজে বের করা উচিত। এই রিপোর্ট নিয়ে আধঘণ্টা আলোচনার পর মহুয়াকে বহিষ্কারের প্রস্তাবের ওপর ভোট হয়। ধ্বনিভোটে পাস হয় প্রস্তাব।
লোকসভা থেকে বহিষ্কৃত হবার পর মহুয়ার পাশে দাঁড়িয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের দলনেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার দুপুরে দার্জিলিংয়ের কাসিয়ং থেকে সাংবাদিক বৈঠকে এই ঘটনার 'ধিক্কার' জানান তিনি।
মমতা বলেন, মহুয়ার পাশে আছে, থাকবে। ভোটে মহুয়াকে পরাজিত করতে না পেরে প্রতিহিংসার রাজনীতি করেছে বিজেপি। ধিক্কার জানাচ্ছি। গণতন্ত্রের লজ্জা। সংসদের জন্য দু:খের দিন।
হামাসের আক্রমণে ইসরাইলি মন্ত্রীর ছেলে নিহত