যুদ্ধের ক্লান্তি কাটাতে সেনা নেতৃত্বের সংস্কারের জন্য ইউক্রেনের সেনাপ্রধান জেনারেল ভ্যালেরি জালুঝনিকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
সোমবার এক বৈঠকে জেলেনস্কি জালুঝনিকে সেনাপ্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে অন্য কোনো পদে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব দেন এবং প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করলে জালুঝনিকে বহিষ্কার করা হবে বলেও জানান। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট এ খবর জানিয়েছে।
বিষয়টি নিয়েই এ সপ্তাহের শুরুতেই ব্যাপক গুঞ্জন উঠেছিল।
ওই বৈঠকে জেলেনস্কি জেনারেল জালুঝনিকে বলেন, সাধারণ ইউক্রেনীয়রা যুদ্ধ নিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। এছাড়া পশ্চিমা মিত্ররাও আগের মতো অস্ত্র সাহায্য করছে না। এ অবস্থা কাটিয়ে উঠতে হলে সেনাবাহিনীতে ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে আসা প্রয়োজন।
সম্প্রতি ইউক্রেনের সেনাপ্রধান ও প্রেসিডেন্টের মধ্যে বেশ কয়েকবার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতানৈক্য প্রকাশ্য হয়েছিল। বিশেষ করে, নতুন সেনাসদস্য নিয়োগ দেওয়া নিয়ে জেলেনস্কি ও সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা গেছে।
এদিকে, বর্তমানে ইউক্রেনে জনপ্রিয়তার দিক থেকে জেলেনস্কির চেয়ে অনেক এগিয়ে জালুঝনি। সম্প্রতি চালানো একটি জরিপে দেখা গেছে, যদি এই মুহূর্তে ইউক্রেনে নির্বাচন হয়; তাহলে জালুঝনির কাছে বড় ব্যবধানে হারবেন জেলেনস্কি।
ডিসেম্বরে প্রকাশিত একটি জরিপে দেখা গেছে, ৮৮ শতাংশ ইউক্রেনীয় জেনারেল জালুঝনির ওপর আস্থা রাখেন। অন্যদিকে ৬২ শতাংশ বলেছেন, জেলেনস্কির ওপর আস্থা রাখেন তারা।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে রুশ সেনাদের বিরুদ্ধে বহুল প্রত্যাশিত পাল্টা আক্রমণ শুরু করে ইউক্রেনীয় সেনারা। তবে সেটি পুরোপুরি ব্যর্থ হয়। তারপর থেকেই মূলত জেলেনস্কির জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করে।
এরপর নভেম্বরে সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনোমিস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেনারেল জালুঝনি বলেন, যুদ্ধ অচলাবস্থায় চলে যাচ্ছে।
তার এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেন জেলেনস্কি। জেলেনস্কির অফিস মনে করে, জালুঝনির বিবৃতি যতটা না সামরিক তার চেয়ে অনেক বেশি রাজনৈতিক।
চিরদিনের জন্য নাৎসিবাদ মুছে ফেলা হবে: পুতিন