বাগেরহাটে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দেশীয় ও আগ্নায়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন নিহত এবং উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ ঠেকাতে গিয়ে আহত হয়েছেন ছয় পুলিশও। এ ঘটনায় দুটি মামলায় পুলিশ এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
রোববার জেলার মোল্লাহাট উপজেলার মোল্লারকুল গ্রামে সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ওই রক্তক্ষয়ী সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে।
নিহতের নাম পান্না মোল্লা (৪০)। তিনি বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট উপজেলার মোল্লারকুল গ্রামের তৈয়ব মোল্লার ছেলে। সোমবার দুপুরে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে বিকালে তাকে দাফন করা হয়েছে।
মোল্লাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ এসএম আশরাফুল আলম জানান, দুই পক্ষের প্রায় ৫০০ গ্রামবাসী সংর্ঘষে জড়ায়। এসময় গুলি এবং দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে পান্না মোল্লা নিহত হয়। সংর্ঘষ থামাতে পুলিশ ৯৯ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে তিনটি গুলির খোসা, রামদা, চাইনিজ কুড়াল, সড়কি, বল্লমসহ বেশকিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি জানান, সোমবার রাতে নিহতের ছেলে মামুন মোল্লা বাদি হয়ে এজাহারে ৪০ জনের নামউল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫০ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
তিনি আরও জানান, সোমবার রাতে পুলিশের পক্ষ থেকেও একটি মামলা করা হয়েছে। দুটি মামলায় মোট ২৭৪ জন আসামির মধ্যে এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আহতদের মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেলুর রহমান জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মোল্লারকুল গ্রামের লায়েক কাজী ও শাহাজান খাকীর মধ্যে দীর্ঘ ছয়-সাত বছর ধরে বিরোধ চলে আসছে। মাঝে মধ্যে ওই দুই পক্ষের সমর্থকরা সংর্ঘষে লিপ্ত হয়। রোববারের ঘটনার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আরাকান আর্মির দখলে সীমান্ত, ঝুঁকি বাড়ছে