জমে উঠেছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে পশ্চিমাদের রাজনীতি। পুতিনের চতুর কৌশলে যখন যুদ্ধের ময়দানে ইউক্রেন প্রায় কোণঠাসা, ঠিক তখনই জমে উঠেলো এই খেলা। পশ্চিমারা চাইছে, এই যুদ্ধকে আরও টেনে নিয়ে যেতে। এজন্য রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য সেনা পাঠানোর ভাবতে শুরু করে পশ্চিমারা। বিষয়টি শুরুতে চেপে রাখতে চাইলেও সেটি প্রকাশ্যে এনে বিপত্তি ঘটালো স্লোভাকিয়া।
গত সোমবার স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো জানান, বেশ কয়েকটি ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ভিত্তিতে ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর কথা বিবেচনা করছে। তবে তিনি জানিয়ে দেন, তার দেশ ন্যাটোভুক্ত হলেও ইউক্রেনে সেনা পাঠাবে না। দীর্ঘদিন ধরেই ইউক্রেনে সামরিক সরবরাহ পাঠানোর বিরোধিতা করছেন ফিকো । তার এমন অবস্থান রাশিয়ার স্বার্থের পক্ষে যায় বলেও সমালোচনা আছে।
ফিকোর এমন বেফঁস মন্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই, প্যারিসে ইউক্রেন সংক্রান্ত ইউরোপীয় সম্মেলনের পর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ বলে বসলেন, রাশিয়ার হামলার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের জয় নিশ্চিত করতে তার দেশ সব কিছুই করবে। এমনকি প্রয়োজনে সেনা পাঠানোর কথাও জানান তিনি। মাক্রোঁ এমন কথার পরই শুরু হয়ে যায় তোলপাড়। কঠোর প্রতিক্রিয়া জানান ক্রেমলিন।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ইউক্রেনে সেনা পাঠালে ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠবে। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র যেন ইউক্রেনের প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্মূল্যায়ন করে। পশ্চিমারা যেন নিজেদেরকে প্রশ্ন করে, ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন তাদের জনগণের স্বার্থ রক্ষা করে কিনা। মস্কোর এমন হুশিয়ারীর পরপরই দৃশ্যপট পাল্টে যায়, সাধুর বেশে হাজির হয় আমেরিকা।
তলে তলে মিত্রদের উসকে দিলেও যুক্তরাষ্ট্র জানায়, ইউক্রেনের তারা সেনা পাঠাবে না। আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের নারী মুখপাত্র এড্রিন ওয়াটসন এক বিবৃতিতে বলেন, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন স্পষ্ট করে বলেছেন ইউক্রেনে যুদ্ধের জন্যে যুক্তরাষ্ট্র কোন সৈন্য পাঠাবে না। ফ্রান্স বা ন্যাটোভুক্ত কোন দেশ যদি এমন সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সেটি হবে সংশ্লিষ্ট দেশের ‘সার্বভৌম সিদ্ধান্ত’। যুক্তরাষ্ট্র এরমধ্যে নেই।

ওয়াশিংটনের এমন সিদ্ধান্তের পর, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, স্পেন, পোল্যান্ড ও চেক রিপাবলিকের নেতারা তিন বছরে গড়ানো ইউক্রেন যুদ্ধে নিজেদের কোনো সেনা পাঠানোর আভাস নাকচ করে দেন। একই ধরনের কথা জানিয়ে বিবৃতি দেয় ন্যাটোও। বলেছে, ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও এর প্রধান ইউরোপীয় মিত্রদেশগুলো।
পূর্ব ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাফল্য অর্জন এবং ইউক্রেনে গোলাবারুদ ও সৈন্যশক্তি কমে আসার মধ্যে পশ্চিমারা কিয়েভের প্রতি তাদের সমর্থন চাঙ্গা করতে গিয়ে হিতে বিপরীত হয়েছে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। কারণ, ইউক্রেনকে অস্ত্র দিয়ে প্রকারান্তরে রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমারা যে অলিখিত যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন, তাতে আপাতত হেরে গেছে তারা।
আভদিভকার কাছে তৃতীয় গ্রাম হাতছাড়া ইউক্রেনের