দুবাই যাওয়ার পথে ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ার জলদস্যুদের হাতে ছিনতাই হওয়া বাংলাদেশের এমভি আব্দুল্লাহ জাহাজে জিম্মি ২৩ নাবিকের একজন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মোহাম্মদ আনারুল হক রাজু (২৯) ।
তিনি ওই জাহাজটিতে ‘এবি’ (অ্যাবল সীমেন) হিসেবে কর্মরত আছেন।
রাজুর পরিবারের সদস্যরা জানান, তাদেরকে জাহাজের একটি কেবিনে আটকে রাখা হয়েছে। রাতে তাদের সেহেরি খাবার জন্য দিয়েছে দস্যুরা। ওইসময় সে হোয়াটসঅ্যাপে আমাদের কল দিয়ে এসব কথা বলেছিলো। হঠাৎ করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় আর কথা বলা সম্ভব হয়নি। রাজুসহ সকল অপহৃতদের জীবিত উদ্ধারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি দাবি জানিয়েছেন রাজুর পরিবার।
কয়লা বোঝাই করে মোজাম্বিক থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাওয়ার পথে মঙ্গলবার সোমালি জলদস্যুদের কবলে পড়ে বাংলাদেশে কবির গ্রুপের মালিকানাধীন ‘এমভি আবদুল্লাহ’।
এরপর জাহাজটিকে সোমালিয়ার উপকূলের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে সকালে জানান নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মোহাম্মদ মাকসুদ আলম।
দুপুরে নৌ প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই জলদস্যু কি সোমালিয়ার নাকি অন্য কোনো দেশের, তা সরাসরি বলা যাবে না। তবে অঞ্চলটি সোমালিয়ার মধ্যে।’
সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসু থেকে প্রায় ৬০০ নটিক্যাল মাইল পূর্ব দিকের মহাসাগরে কয়েকটি স্পিড বোট ও মাছ ধরার বড় নৌকা নিয়ে সশস্ত্র দস্যুরা জাহাজে প্রবেশ করে নিয়ন্ত্রণ নেয়। জিম্মি করে ফেলে এর ২৩ নাবিককে।
রাজুর বড় ভাই জিয়াউল রনি বলেন, বাড়ি থেকে যাওয়ার পর গত নভেম্বরে সে সিঙ্গাপুর থেকে জাহাজে উঠেছিলো। গতকাল সে আমার মোবাইলে একটি মেসেজ করে। যেখানে লেখা ছিলো ‘সোমালিয়ান পাইরেটস অনবোর্ড, বাঁচি থাকলে দেখা হবে, দোয়া কইরেন…।’
রাজুর মা দৌলত আরা বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমার ঘর ভাঙা ছিলো। এখন বিল্ডিং করতেছি। ঘরের কাজ শেষ হলে ছেলে জাহাজ থেকে আসলে তাকে বিয়ে করাবো তার জন্য পাত্রী দেখতেছি। এরই মধ্যে গতকাল খবর পেলাম আমার ছেলেসহ ২৩ জন অপহৃত হয়। আমি প্রধানমন্ত্রী ও আমাদের নেতা সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সহযোগিতা চাই।
তার বাবা আজিজুল হক মাস্টার তার ছেলেসহ সকলকে উদ্ধার করার জন্য প্রধানমন্ত্রী এবং কোম্পানীগঞ্জের সংসদ সদস্য সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সহযোগিতা কামনা করেন।
সোমালিয়ার পথে আবদুল্লাহ, নাবিকরা নিরাপদে
জলদস্যুরা সোমালিয়ারই কিনা, সন্দেহ নৌ প্রতিমন্ত্রীর 