পাহাড়ে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট বা কেএনএফের তৎপরতাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেছেন, সরকার এ নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক ও শক্ত অবস্থান নিয়েছে। এটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওই এলাকা ঘুরে এসেছেন। যৌথ অভিযান চলছে।
রোববার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
কুকি-চিনের তৎপরতায় পাহাড়ের সার্বিক পরিবেশ নষ্ট হবে না মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকার যা চাচ্ছে সেভাবে অভিযান এগুবে, মানুষের উপর হামলা আমাদের কাজ নয়, সন্ত্রাসীরা সংঘটিত নয়, তারা বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে আছে, সেজন্য তথ্য নিশ্চিত হয়েই তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে।
সম্প্রতি পাহাড়ের বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট বা কেএনএফের সন্ত্রাসীরা রুমা ও থানচির দুটি সরকারি ব্যাংকের তিন শাখায় হামলা চালায়।
লুটপাট ছাড়াও অস্ত্রের মুখে সোনালী ব্যাংকের রুমা শাখার ম্যানেজার নেজাম উদ্দিনকে অপহরণ করে তারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৪টি অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গুলিও লুট করে সন্ত্রাসীরা। পরে র্যারের মধ্যস্ততায় অপহৃত ব্যাংক ম্যানেজারকে উদ্ধার করা হয়।
সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা আলীকদম উপজেলায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের একটি যৌথ তল্লাশি চৌকিতেও হামলা চালায়। এরপর কেএনএফকে দমন করতে সরকারের পক্ষ থেকে যৌথ অভিযান চালানোর ঘোষণা দেয় সরকার।
ব্যর্থতা ঢাকতে ইস্যুর খোঁজে বিএনপি
বিএনপির উদ্দেশে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি ব্যর্থতা ঢাকতে ইস্যু খোঁজে। মিয়ানমার ইস্যুতে ব্যর্থ এখন কুকি চিন ইস্যু। এটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এর দ্বারা গোটা পাহাড়ের সার্বিক শান্তি পরিস্থিতিতে প্রভাব পড়বে না। কাজেই এটা নিয়ে নতুন ইস্যু খোঁজাও ব্যর্থ হবে।
তিনি বলেন, বিএনপির আন্দোলন করার সামর্থ্য নেই। শক্তি-সামর্থ্য সবই তারা হারিয়ে ফেলেছে। নেতাকর্মীরা দলটির নেতৃত্বের ওপর হতাশ। তারেকের ওপর হতাশ। তাদের নেতা দেশে নেই, রিমোট কন্ট্রোলে আন্দোলন হবে? এটা কি সম্ভব! আন্দোলন করতে হলে রাজপথে এসে করতে হবে। রিমোট কন্ট্রোলের ডাকে জনগণ সাড়া দেবে না।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বর্তমান অবস্থার জন্য বিএনপিই দায়ী। একটা রাজনৈতিক দল যারা তাকে দেশনেত্রী বলেন, তাকে মুক্তির জন্য মির্জা ফখরুল কি আন্দোলন করেছেন? ৫০০ লোকের একটা মিছিলও করতে পারেননি। আইনি লড়াইয়ে আদালত উপেক্ষা করে বারবার সময় ক্ষেপণ করেছেন। এটা না করলে বিষয়টা অনেক আগেই সেটেল হয়ে যেত। বিএনপি আন্দোলনে ব্যর্থ। বেগম জিয়ার আইনি লড়াইয়েও ব্যর্থ। তাদের এখন চোখের পানি, কান্না, দীর্ঘশ্বাস—এগুলোই সম্বল।
আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে বিভিন্ন জায়গায় নিকটাত্মীয়দের মনোনীত করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রার্থিতা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন উন্মুক্ত মানে উন্মুক্ত পরিবেশে নির্বাচন করার ইচ্ছা বা বাসনা অনেকেরই থাকতে পারে। আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য, এমপি সাহেবরা বা মন্ত্রী মহোদয়রা কোথাও কোনও প্রভাব বিস্তার করবেন না। প্রশাসন নিরপেক্ষ থাকবে। প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কেউ হস্তক্ষেপ করলে তা যেন সফল করতে না পারে। আর প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ার পর কেউ দলীয় নির্দেশ অমান্য করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, সুজিত রায় নন্দী, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়াসহ অন্যরা।
