মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে উদ্দেশ করে মধ্যপ্রাচ্যের কসাই খ্যাত বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, কোনো ধরনের চাপই ইসরাইলকে গাজা গণহত্যা ও চলমান যুদ্ধে লক্ষ্য অর্জনে বাঁধা দিতে পারবে না। প্রয়োজনে ইসরাইল ‘একা দাঁড়াবে’।
এর আগে বুধবার এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, গাজার রাফাহ শহরে ইসরাইল বড় ধরনের স্থল অভিযান চালালে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করে দেবে। বাইডেনের এমন হুঁশিয়ারির জবাবে বৃহস্পতিবার এ মন্তব্য করেন নেতানিয়াহু। খবর কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা'র।
৯ মে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির নাৎসি বাহিনীর পতনের দিনে এক বক্তৃতায় নেতানিয়াহু বলেন, ৮০ বছর আগে হলোকাস্টে (গণহত্যা) যারা আমাদের ধ্বংস চেয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে ইহুদি জনগণ সম্পূর্ণ অরক্ষিত ছিলো। কোনো দেশ আমাদের সাহায্যে এগিয়ে আসেনি।
আমি আজ জেরুজালেম থেকে এই হলোকাস্ট স্মরণ দিবসে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি ইসরাইলকে একা দাঁড়াতে বাধ্য করা হয়, ইসরাইল একা দাঁড়াবে।
ইসরাইলি প্রেসিডেন্ট যোগ করেন, কিন্তু আমরা জানি আমরা একা নই, কারণ বিশ্বজুড়ে অসংখ্য ভদ্র মানুষ আমাদের ন্যায়সঙ্গত কারণকে সমর্থন করে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দখলদার ইসরাইলের অন্যতম কাছের মিত্র দেশ। প্রতি বছর তেল আবিবকে গড়ে বিলিয়ন ডলারের বেশি সামরিক সহায়তা দিয়ে থাকে ওয়াশিংটন। একইসাথে গাজায় চলমান ইসরাইলি গণহত্যাকেও সমর্থন দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপে পড়েছে বাইডেন প্রশাসন। বিশেষ করে গাজা গণহত্যার জন্য ইসরাইলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রকেও সমানভাবে দুষছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। বাইডেনের ভোট ব্যাংকেও এর বড় রকমের প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা ডেমোক্র্যাটিক শিবিরের। ফলে গাজা গণহত্যা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে বাইডেনকে।
এসবের মধ্যেই গাজার রাফাহতে স্থল অভিযান শুরু করেছে দখলদার ইসরাইলি বাহিনী। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, রাফাহতে ইসরাইলি অভিযান পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলবে। ইরান, চীন, রাশিয়া, বাংলাদেশ, তুরস্কসহ বিশ্বের বহু দেশ এর নিন্দা জানিয়েছে।
সবশেষ বৃহস্পতিবার রাফাহতে স্থল অভিযান শুরু করেছে দখলদার ইসরাইলি বাহিনী। প্রাণ বাঁচাতে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি ওই এলাকা ছেড়ে পালাচ্ছে। হামলায় বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি হতাহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে গেলো বছরের অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল। সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা আগ্রাসনে এ পর্যন্ত ৪০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। আহত ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে।
ফ্রান্সকে কড়া হুঁশিয়ারি দিলো রাশিয়া
ভারতে কমছে হিন্দু, বেড়েছে সংখ্যালঘু জনসংখ্যা: রিপোর্ট
ইরানে বিরল ‘মাছ বৃষ্টি’ দেখে হতবাক নেটদুনিয়া!