হবিগঞ্জের আজমিরিগঞ্জে কুশিয়ারা নদী ভাঙনের শিকার প্রায় শতাধিক বসতভিটা। নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে ঘরবাড়ি। অনেকেই নিজ উদ্যোগে বাঁশের আড় দিয়ে শেষ সম্বলটুকু রক্ষা করার চেষ্টা করেও বিপল হচ্ছেন। পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন কাটছে তাদের।
পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, নদীর পানি কমলে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন মেরামত কাজ শুরু করা হবে।
নদীভাঙন ঘরের কতটা কাছে, উদ্বিগ্ন হয়ে তা দেখছিলেন হবিগঞ্জের আজমীরিগঞ্জের এক নারী। কাকাইলছেও ইউনিয়নের বদলপুর ও সৌলরী গ্রামে এরই মধ্যে নদীতে চলে গেছে প্রায় শতাধিক বসতভিটা। বিলীন হওয়ার অপেক্ষায় আরও শতাধিক ঘরবাড়ি।
যেন দুর্ভাগ্য নিয়েই জন্মেছেন নদীপাড়ের এসব মানুষ। পরিবার-পরিজন আর গরু-ছাগল নিয়ে অসহায় জীবনযাপন করছেন তারা, যেকোন সময় নদী কেড়ে নেবে শেষ সম্বল।
ভুক্তভোগী একজন বলেন, দেখতেইতো পাচ্ছেন কীভাবে জীবনযাপন করছি। অনেক পরিবার এখান থেকে চলে গেছে।
দুই বছর আগে নদীতীরে তিন কোটি টাকার জিওব্যাগ ফেলে গ্রাম দুটি রক্ষার চেষ্টা করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। গত বছরও দুইশ’ মিটার এলাকায় ফেলা হয় জিও ব্যাগ। কিন্তু এতে ভাঙন রোধ হয়নি।
এক গ্রামবাসী বলেন, নদী ভাঙনে আমাদের অসহায়ত্ব মুখের ভাষায় বলে বোঝানো সম্ভব নয়। ঘর চলে গেছে। এখন দাঁড়াবো কোথায় সেটা ভাবতে হচ্ছে। ঘরতো চলে গেছে। যেটুকু পেরেছি, টিন উদ্ধার করেছি।
নদীর পানি কমার আগে এসব গ্রামবাসীর জন্য কোন সুখবর নেই। পানি কমলে আবারও জিওব্যাগ ফেলবে পানি উন্নয়ন বোর্ড, এজন্য বাজেট পাঠানো হয়েছে ঢাকায়।
জেলার পানির উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হাবিবুর রেজা বলেন, প্রায় এক কোটি ৮২ লাখ টাকার একটি প্রাক্কলন তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠিয়েছি। পানি কমা সাপেক্ষে আমরা দ্রুত কাজ শেষ করবো।
তবে নদীভাঙন ঠেকাতে সাময়িক ব্যবস্থার বদলে সিসি ব্লক ফেলার মত স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান এলাকাবাসী।
