লোকসভার নির্বাচনের পর লোকসভার অধিবেশনও কাঁপাচ্ছেন ভারতের বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। প্রথম অধিবেশনে দেয়া রাহুলের প্রথম বক্তব্যেই টালমাটাল ক্ষমতাসীন এনডিএ জোট। ভারতের তরুণ তুর্কি নেতাকে থামাতে কম চেষ্টা করেননি বিজেপি নেতারা। তুমুল হট্টগোলে উত্তাল হয়ে উঠে লোকসভা।
তবে রাহুল গান্ধীকে থামাতে সরকার দলীয় সদস্যদের এমন আচরণে ক্ষেপেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সবার প্রতি আহবান জানিয়েছেন, সংসদীয় রীতি অনুসরণ করার। সেই সঙ্গে লোকসভায় এনডিএ জোটের সদস্যদের কাছ থেকে অনুকরণীয় আচরণ প্রত্যাশা করেন বলেও জানান মোদী।
মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী এনডিএ সংসদীয় দলের বৈঠকে ভাষণ দেন, যেখানে বিজেপির শীর্ষ নেতা এবং মন্ত্রিরা উপস্থিত ছিলেন। টানা তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হবার পর এটিই এনডিএ সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে নরেন্দ্র মোদীর প্রথম ভাষণ। সেখানে তিনি সবাইকে সতর্ক করেছেন বলে জানা গেছে।

বৈঠকের পর সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু সাংবাদিকদের বলেন, এনডিএ সংসদ সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীকে তার তৃতীয় মেয়াদে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং তাদের সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের মনে করিয়ে দিয়েছেন, জাতির সেবায় তারা সংসদে এসেছেন এবং সেটি মনে রাখতে হবে।
সংসদ অধিবেশনে সদস্যদের কিভাবে আচরণ করতে হবে, তা নিয়েও তালিম দিয়েছেন মোদী। নির্বাচনী এলাকা এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে কথা বলার আহবানও জানিয়েছেন। এ সময় বিরোধী দলীয় নেতা রাহুলকে কটাক্ষ করে রিজিজু বলেন, তিনি স্পিকারকে রীতিমতো অপমান করেছেন।
আগের দিন, সোমবার বিরোধী দলের নেতা হিসাবে প্রথমবার কথা বলার সুযোগ পেয়েই সরকারি দলকে তুলোধুনো করেছেন রাহুল গান্ধী। বিজেপির উপর তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। শাসক দলের বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তদন্ত সংস্থাকে অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছিলেন।

এরিমধ্যে সংসদের রেকর্ড থেকে রাহুল গান্ধীর একাধিক অংশ মঙ্গলবার বাতিল করেন স্পিকার ওম বিড়লা। এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় রাহুল বলেন, মোদীর দুনিয়ার সত্যকে মুছে ফেলা হয়। কিন্তু বাস্তবে সত্যকে মুছে ফেলা যায় না। আমি যা বলেছি তা সত্য। ওরা সেই সত্য যত খুশি মুছে দিতে পারে। সত্য সত্যই থাকবে।
তাঁর মন্তব্য কেন বাদ দেয়া হল তা নিয়েও মঙ্গলবার প্রশ্ন তুলেছেন রাহুল। তাঁর মন্তব্য বাদ দেয়াকে সংসদীয় গণতন্ত্রের বিরোধী বলেও তোপ দেগেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। তার পরই তিনি স্পিকারকে চিঠি লিখে সেই মন্তব্য কার্যবিবরণীতে অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন জানিয়েছেন রাহুল গান্ধী।
উল্লেখ্য, সোমবার বিরোধী দলনেতা রাহুলের ‘হিন্দু’ মন্তব্যের জেরে উত্তাল হয় লোকসভা। হইচই শুরু হয়ে যায় ট্রেজ়ারি বেঞ্চ থেকে। রাহুলকে ক্ষমা চাইতে হবে বলে দাবি তোলেন বিজেপি সাংসদেরা। এমনকি রাহুলের বক্তব্যের মাঝেই নিজের আসন থেকে উঠে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
